নোয়াখালীতে সাতজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা গ্রেফতার

নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী থেকে মো. নূর নবী চৌধুরী নামে সোনালী ব্যাংক ফেনী জেলার দাগনভূঞা শাখার এক সিনিয়র অফিসারকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নোয়াখালীর সুবর্ণচরে কর্মরত থাকা অবস্থায় ভূয়া আবেদনে ৫১জন গ্রাহকের স্বাক্ষর নিয়ে প্রকৃত গ্রাহকদের অনুকূলে ঋণের টাকা বিতরণ না করে ১৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত নূর নবী চৌধুরী ও ব্যাংকের আরো তিন কর্মকর্তাসহ মোট সাতজনকে আসামী করে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুদক সমন্বিত নোয়াখালী জেলা কার্যালয়।  

দুদক নোয়াখালী জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ কেজি স্কুলের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মো. নূর নবী চৌধুরী সুবর্ণচর উপজেলার উত্তর কচ্ছপিয়া গ্রামের মকবুল আহমেদ চৌধুরীর ছেলে। অপর আসামীরা হলেন, ব্যাংক কর্মকর্তা নেছার আহমেদ, মোহাম্মদ আবুল কাশেম, আব্দুল গোফরান, সাবেক ইউপি সদস্য আলেয়া বেগম, ব্যবসায়ী মহি উদ্দিন ও মো. সিরাজুল ইসলাম। 

সূত্র জানায়, ব্যাংক কর্মকর্তা নূর নবী চৌধুরী সোনালী ব্যাংক লিমিটেড সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা শাখায় ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তিনি ৩০জন গ্রাহককে স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ দেওয়ার কথা বলে আবেদন পত্রে স্বাক্ষর নেয়। পরবর্তীতে ওই গ্রাহকদের অনুকূলে তিনি ভূয়া ঋণবন্ড তৈরী করে ১২ লাখ ৪৫হাজার টাকা উত্তোলন করে। উত্তোলিত টাকা প্রকৃত গ্রাহকদেরকে না দিয়ে চরবাটা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক মহিলা মেম্বার আলেয়া বেগম, চরবাটা গ্রামের মো. শহীদ উদ্দিনের ছেলে মহি উদ্দিন ভূঁইয়া ও উত্তর কচ্ছপিয়া গ্রামের নুরুজ্জামান প্রকাশ বাচ্চু মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলামের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ওই টাকা আত্মসাৎ করে।  

একই ব্যক্তি ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ওই উপজেলার হারিছ চৌধুরী বাজারে অবস্থিত সোনালী ব্যাংক সুবর্ণচর শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। তিনি ওই শাখায় যোগদান করার পর শাখার সিনিয়র অফিসার (ক্যাশ) নেছার উদ্দিন আহমেদ, অফিসার মোহাম্মদ আবুল কাশেম ও অফিসার আব্দুল গফুরের যোগসাজে একই কায়দায় ২১জন গ্রাহকের নামে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন পূর্বক আত্মসাৎ করে। ইতোমধ্যে ওই কর্মকর্তা ফেনী জেলার দাগনভূঁঞা শাখায় বদলী হলেও দুই শাখার এমন অভিযোগ তদন্তে নামে দুদক জেলা সমন্বিত কার্যালয়। তদন্ত শেষে নূর নবী ও তার সহযোগি অপর ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলে। এর মধ্যে দুদক নূর নবী চৌধুরিকে গ্রেপ্তার করে। 

জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশন নোয়াখালী সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা সুবেল আহমেদ জানান, তদন্ত শেষে বুধবার অভিযুক্ত মূল হোতা ব্যাংক কর্মকর্তা নূর নবী চৌধুরীকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে মামলা দায়ের পূর্বক আটককৃতকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মোট সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যাংক কর্মকর্তাসহ মোট সাতজন পৃথকভাবে ৫১জন গ্রাহকের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে মোট ১৭ লাখ ৯৫হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। অপর আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বুধবার দুপুুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।


মন্তব্য লিখুন :