কোনো ধরনের নৈরাজ্য করলে কঠোর হস্তে দমন: ডিএমপি কমিশনার

পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া

প্রার্থী ও এজেন্টদের ‘অতি উৎসাহের কারণে’ ভোটকেন্দ্রে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে মন্তব্য করে ঢাকার পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, সিটি করপোরেশনের কোনো কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরে নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের নৈরাজ্য করলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। সারা দেশে আজ রোববার যে ২৯৯ আসনে ভোট হচ্ছে তার মধ্যে ঢাকা জেলায় পড়েছে ২০টি। আর ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনে দুই হাজার ১১৩টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়ার সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোট ঘিরে গুজব ছড়ানো প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল গুজব রটায়। এজন্য সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে চমৎকার সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে। রাজনৈতিক সব ব্যক্তিসহ প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তায় সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ডিএমপি। বিভিন্ন তথ্য ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে যেসব নাগরিকের নিরাপত্তা হুমকি রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের জন্য দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি। ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচন ঘিরে ডিএমপিজুড়ে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী-র‌্যাব-বিজিবিসহ সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি পেট্রোল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি এলাকায় মোবাইল পেট্রোল টিম কাজ করছে। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন তার পরিপূর্ণ ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে। যে কোন ধরনের গোলযোগ এড়াতে শন্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমাদের সব কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রার্থী ও তাদের এজেন্টরা নির্বাচনী কোড অব কনডাক্ট মেনে চলবেন। তাদের নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। ভোটার, প্রার্থী বা এজেন্টদের হুমকি দিয়ে নৈরাজ্যের চেষ্টা করা হলে কিংবা ভীতি ছড়িয়ে কেন্দ্র দখলের সামান্য অপচেষ্টা করা হলে কঠোরভাবে দমন করা হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পেশীশক্তি প্রয়োগ করে জ¦ালাও-পোড়াওয়ের চেষ্টা হলে বরদাশত করা হবে না বলেও জানান তিনি। এটা শুধু সরকার বদলের নির্বাচন নয় মন্তব্য করে কমিশনার বলেন, আমরা যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি তার নির্বাচন। তাই নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নয়, প্রত্যেকটি নাগরিকের দায়িত্ব। নির্বাচন যেন আতঙ্কের না হয়ে উৎসবের হয় তার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচন পর্যন্ত পুরো মেট্রোপলিটন এলাকা নিরাপত্তার চাদরে আবৃত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন ডিএমপি কমিশনার। একটি স্বার্থান্বেষী মহল অনলাইনে গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা গুজব ছড়িয়ে নির্বাচনী বিভিন্ন কার্যক্রমকে নিরুৎসাহিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। অনলাইনে বিভিন্ন নেতাকে হত্যা করার তথ্যগুলো আমরা সংগ্রহ করে যাচাই করছি এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। উশৃঙ্খল বা গুজব সৃষ্টি করে কোন ধরনের অপতৎপরতা সার্থক হতে দেওয়া হবে না। ড. কামালকে হত্যার হুমকির সত্যতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সমান গুরুত্বের। তাই শুধু ড. কামাল নয়, তথ্য-অনুসন্ধানের ভিত্তিতে যে সব রাজনীতিবিদ বা নাগরিকের নিরাপত্তার হুমকি রয়েছে বলে মনে হয়েছে তাদের সবার জন্য দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডিএমপির ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যেক নির্বাচনেই কিছু ঝুঁকি থাকে। প্রার্থী ও এলাকা বিবেচনায় আমরা কিছু কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে থাকি। তবে সেই অর্থে ডিএমপিতে কোন ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে সবকেন্দ্রে সবকিছু মোকাবেলা করে ঝুঁকিমুক্ত নির্বাচন করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন, ভোট দেবেন। পুলিশ সব নাগরিকের পাশে থাকবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ডিএমপি কমিশনার।


মন্তব্য লিখুন :