ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ আটজনের হদিস মিলেনি

বরযাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া ট্রলারের নিখোঁজ আটজনের হদিস মিলেনি এখনো। মঙ্গলবার বিকালে ট্রলার ডুবির পর থেকেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। বুধবার দিনভর কোস্টগার্ডের ৪ সদস্যের ডুবরিদল নদীতে অনুসন্ধান করেও কোন লাশ উদ্ধার করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার সকালে পুনরায় নদীতে নামে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ। নিখোঁজদের মধ্যে ৭জন শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় ও সাঁতরে ৪০জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিলো। 

নৌ-পুলিশের ইনচার্জ আকরাম উল্যা জানান, নিখোঁজ ৮জন হলো হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের থানার হাট এলাকার নাসির উদ্দিনের স্ত্রী জাকিয়া বেগম (৫৫), একই এলাকার কাদেরর ছেলে হাসান (৭), মেয়ে নারগিছ বেগম (৪), একই এলাকার রুবেলের মেয়ে হালিমা (৪) , একই এলাকার মহি উদ্দিনের মেয়ে লামিয়া (৩), একই এলাকার রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে নিহা  (১) , একই এলাকার ইলিয়াছের ছেলে আমির হোসেন (৬), ও  রহিমের ছেলে আলিপ (১)।

মঙ্গলবার বিকালে দূর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার করা নববধু তাছলিমাসহ নিহত ৭জনের লাশ বুধবার সকালে সকলের পারিবারিক কবরস্থানে নিহতদের লাশ দাফন করা হয়। এর মধ্যে হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের আজিম পুর গ্রামে একসাথে ৫জনের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। 

এদিকে নিহত কনে তাছলিমার গ্রামের  বাড়ী হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের থানার হাট এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়েছে। এখনো বাকরুদ্ধ কনের বাবা ইব্রাহীম সওদাগর ও তার পরিবারের সকল সদস্য। নিহদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বিয়ের গেইট, সামিয়ানা সবই আছে কিন্তু ট্রলার ডুবিতে নিঃশেষ হয়ে গেছে সবকিছু।

হাতিয়া কোষ্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার মোহাম্মদ আলী  জানান, নিখোঁজ ৮জনকে খুঁজতে ভোলা থেকে ডুবরি দলা আনা হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে হাতিয়ার টাংকির ঘাট থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। দিন রাত ২৪ ঘন্টা এই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

একই ভাবে হাতিয়া নলচিরা নৌ-পুলিশের একটি টিম নদীতে কাজ করছে। তারা বুধবার সকাল থেকে বিভিন্ন চরে জীবিত উদ্ধার হওয়া লোকজনকে তাদের বাড়ী বাড়ী পৌছে দিচ্ছে।

প্রসঙ্গত: মঙ্গলবার বিকালে কনেসহ বরযাত্রী নিয়ে ট্রলারটি হাতিয়ার চানন্দী ঘাট থেকে বরের বাড়ী ঢালচরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ট্রলারটি ঢালচরের কাচাকাছি এলে প্রবল স্রোতে নদীতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। এই ঘটনায়  কনে তাছলিমাসহ ৭জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।  এসময় ট্রলারের মধ্যে নারী পুরুষ শিশু সহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোক ছিল বলে জানাযায়। 


মন্তব্য লিখুন :