যুবলীগ নেতা আশরাফের মৃত্যুবার্ষিকী এবং হাতিয়ার রাজনীতি

অপরাজনীতির তীর্থকেন্দ্র নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আশরাফের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী চলে গেছে নিরবেই। গত ৯ এপ্রিল ছিলো তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। না, করোনা পরিস্থিতির কারণে এমনটি হয়ে সেটি ভাবার সুযোগ নেই। কারণ আশরাফ হত্যা নিয়ে হাতিয়ায় বলার মতো কেউ থাকলে অন্ততত ফেসবুকেও বাদ-প্রতিবাদ দেখা যেতো। যদিও বিষয়টি আইনী প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তবুও আশরাফের স্বজনদের ভূমিকা এবং ভাগাভাগির রাজনীতিতে আশরাফকে বলি দেওয়ার ঘটনা হাতিয়ার রাজনীতিতে এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। 

এসবের মধ্যেই আশরাফের অসহায় স্ত্রী-সন্তানদের ভবিষ্যতের বিষয়টিও হয়তো সবাই ভুলে যাবে একদিন। ঐতিহ্যবাহী পরিবারের স্বজনরা ভাইয়ের মৃত্যুকে সন্ত্রাসী এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঘিরে গড়ে ওঠা জনরোষকে পুঁজি করে হাতিয়ার রাজনীতিতে নিজেদের পোক্ত করে নেয়। চিরবৈরী রাজননৈতিক প্রতিপক্ষের সাথে দহরম-মহরম সম্পর্ক আশরাফের স্বজনদের এবং আশরাফের রাজনৈতক সহযোদ্ধাদের যেভাবে ভুলিয়ে দিয়েছে এই পরিকল্পিত নির্মম হত্যাকান্ড। এভাবেই একদিন আশরাফের স্ত্রী-সন্তানকেও ভুলে যাবে না কেউ ? এমন প্রশ্নের উত্তর কে দিবে ? স্বামী হারানো স্ত্রী এবং পিতা হারানো অবুঝ সন্তানদের কাছে পিতৃহত্যার বিচার যেমন চাওয়া তারচেয়ে বড় নিরাপত্তার বিষয় হচ্ছে আগামির অনিশ্চিত দিনগুলো।

আশরাফের পরিচয় তিনি হাতিয়ার বর্ষিয়ান রাজনতিবিদ মরহুম জিয়াউল হক তালুক মিয়ার ছেলে। হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। হাতিয়ার সাবেক সাংসদ অধ্যাপক ওয়ালি উল্যার ভাতিজা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন চেয়ারম্যানের ভাই, আলাউদ্দিন আল আজাদ চেয়ারম্যানের ভাই, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ছাইফ উদ্দিনের ভাই। এরকম হাজারো পরিচয়ে পরিচিত আশরাফ আজ শুধুই স্মৃতি। কিন্তু স্ত্রী-সন্তানদের কাছে এক নির্মম বাস্তবতা আশরাফ বেঁচে নেই। এক অনিশ্চয়তার নাম তাঁর মৃত্যু। 

অথচ; এমনটি হওয়ার কথা ছিলো ? ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ আফাজিয়া বাজারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাউলের জন্য ডিলারের দোকান ঘেরাও করেছিলো সাধারণ মানুষ। সেখানে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন আশরাফ, মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মারা যাান ৯ এপ্রিল। পুরো হাতিয়া ক্ষোভে ফুঁসে উঠে। হাতিয়ার ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জানাজা অনুষ্ঠিত হয় আশরাফের। দৃপ্তশপথ ছিলো এই হত্যাকান্ডের ঐক্যের। হত্যার ঘটনায় মামলার বাদী হন এডভোকেট ছাইফ উদ্দিন। আসামীদের অনেকেই গ্রেফতারও হয়। কিন্তু যতোদিন গড়ায় ততোই পর্দার আড়ালে চলতে থাকে অন্যখেলা। মামলা চলতে থাকে মামলার গতিতে। কিন্তু বছর না ঘুরতেই হাতিয়ার রাজনীতির মঞ্চের চিরচেনা চিত্র দ্রুত বদলে যেতে থাকে। ছবিগুলো আশরাফের হত্যার বিচারের পথ কতদূর ? সেই প্রশ্নের উত্তর সহজেই দিতে পারে। এটি বুঝতে যে কারোই জ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই। 

আশরাফ হত্যার পরবর্তী আন্দোলনের ভিডিও গুলো ঘুরছে ইউটিউবে। কিন্তু হিসাব মিলেনা হাতিয়ার মানুষের। হয়ত; বিচারও হবে। কিন্তু আশরাফকে কখনোই তাঁর ্স্ত্রী-সন্তানরা পাবে না। আশরাফের সন্তানদের কাছে তাঁদের পিতার ¯েœহ অধরাই থেকে যাবে। কিভাবে কাটবে তাঁদের ভবিষ্যৎ সেটা হয়তো সময় বলে দিবে। উত্তারাধিকারে বিষয়গুলেও হাতিয়ার রাজনৈতিক মঞ্চের মতো হয়ে পড়ে কিনা সেটাও সময় বলে দিবে। 

এনিয়ে বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন..... 

মন্তব্য লিখুন :