নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন করছেন যারা...

বাংলাদেশ মহান মুক্তিযুদ্ধ তথা স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নোয়াখালী কমিটিতে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন বরেণ্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক স্পীকার ও মন্ত্রী। যাদের অনেকেই পাকিস্তান আমলে প্রাদেশিক পরিষদ ও জাতীয় পরিষদ সদস্য এবং স্বাধীনতা পরবর্তীকালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ১২টি কমিটি দায়িত্ব পালন করেন। আগামি ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বিগত সময়ে দায়িত্বপালনকারী নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হবে। 

প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা যায়, পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার পর নোয়াখালী জেলা কমিটির গঠন করা হলে প্রথম সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এডভোকেট সিরাজ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সরুজ মিয়া মোক্তার। এডভোকেট সিরাজ উদ্দিন পরে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এই কমিটির দায়িত্ব পালনকালে তখনকার নোয়াখালী  বারের প্রভাবশালী আইনজীবী এডভোকেট সেকান্তর মিয়া আওয়ামী লীগে যোগদান করলে তাঁকে সভাপতি এবং এডভোকেট সিরাজ উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক পরে পুনরায় জেলা কমিটি গঠিত হয়।

১৯৬২ সালে সালে সাবেক জাতীয় পরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মালেক উকিলকে সভাপতি এবং সাবেক জাতীয় পরিষদ ও সংসদ সদস্য শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নুরুল হক মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি নোয়াখালী অঞ্চলে স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করে। 

মহান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আব্দুল মালেক উকিল কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া সরকারের মন্ত্রী হওয়ায় নুরুল হক মিয়াকে সভাপতি এবং সাবেক গণপরিষদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সহিদ উদ্দিন এস্কেন্দার (কচি ভাই) কে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটি গঠিত হয়। 

এই কমিটির দায়িত্ব পালনকালেই দেশে সামরিক শাসন জারি হলে সহিদ উদ্দিন এস্কেন্দার (কচি ভাই) কে সভাপতি এবং সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মো. হানিফকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটি গঠিত হয়। সহিদ উদ্দিন এস্কেন্দার (কচি ভাই) এর মৃত্যুর পর পুনরায় নুরুল হক মিয়াকে সভাপতি এবং অধ্যাপক মো. হানিফকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটি হয়।

এই কমিটির মেয়াদ শেষ হলে এডভোকেট কামাল উদ্দিনকে আহবায়ক করে জেলা কমিটি কিছু দিন দায়িত্ব পালন করে। পরবর্তীতে সম্মেলেনের মাধ্যমে অধ্যাপক মো. হানিফকে সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে জেলা বিএলএফ’র ডেপুটি কমান্ডার এডভোকেট মমিন উল্যাকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর সাবেক সাংসদ এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে জেলা বিএলএফ’র কমান্ডার মাহমুদুর রহমান বেলায়েতকে সভাপতি এবং এডভোকেট মমিন উল্যাকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটি গঠিত হয়। 

২০০৪ সালের ০৭ জুলাই অধ্যপক মো. হানিফকে সভাপতি এবং একরামুল করিম চৌধুরী। ২০১০ সালের মে মাসে জেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ অধ্যাপক মো. হানিফকে সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন অধ্যক্ষ খায়রুল আ ন ম সেলিম।

২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সম্মেলনে অধ্যক্ষ খায়রুল আ ন ম সেলিম সভাপতি এবং একরামুল করিম চৌধুরী এমপি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।


প্রসঙ্গত : এই সংবাদটিতে কমিটি গঠনের সন এবং তারিখ সংক্রান্ত কোন সুর্নিদিষ্ট তথ্য না পাওয়ায় তা উল্লেখ করা যায়নি। এছাড়াও কোন তথ্যে গরমিল থাকলে তা সংশোধনযোগ্য। কারো কাছে সুর্নিদিষ্ট তথ্য থাকলে তা সরবরাহ করে সহযোগীতা করতে পারবেন।


মন্তব্য লিখুন :