গণকবর নয়, ধর্মীয় রীতিতে প্রবাসীদের সমাহিত করতে পাশে দাঁড়াই

যে শহর ঘুমায়নি কখনো সেই শহর এখন নির্জিব নিথর। প্রতিনিয়ত সাইরেন বাজিয়ে ছুটে চলা এম্ব্যুলেন্স আর লাশবাহি গাড়ি দেখতে দেখতে বোধহীন হয়ে পড়েছে নিউইয়র্ক নগরবাসী। অদৃশ্য ঘাতক করোনা ভাইরাসের সংক্রমনে আক্রান্ত এবং মৃত্যু যা, তার এক তৃতীয়াংশই নিউইয়র্ক স্টেটে। যুক্তরাস্ট্রে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত করোনায় মৃতের সংখ্যা ১৬৭, তন্মধ্যে শুধু নিউইয়র্কেই ১৫৩। এই হিসাব প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার।

অবস্থা এমনই যেনো নিউইয়র্কের ধুলিকনাতেও করোনা আতংক। করোনার এই ভয়াল ছোবলে মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে কমিউনিটি এক্টিভিস্ট, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রযুক্তিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রবাসী রয়েছেন। এই অবস্থায়ও সমাজকর্মে ব্রতি সংগঠনগুলো এবং কিছু মানুষ এগিয়ে রয়েছেন সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে। 

কমিউিনিটির এই সংকটকালীন সময়ে সবচে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী প্রবাসী ভাই-বোনের মৃতদেহ সমাহিত করার কাজটি। কেননা মৃতদেহ গ্রহণ করে ফিউনারেল হোমে রাখা, দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকৃয়া সম্পন্ন করা এবং দাফন করা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় সম্পন্ন শ্রম এবং আর্থিক বিষয়টিও জড়িত। যেখানে করোনায় মৃত্যুবরণকারীদের গণকবর দেওয়ার সংবাদ, ছবি, ভিডিও গণমাধ্যম এবং  সামাজি যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার পাচ্ছে সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের যার যার ধর্ম অনুযায়ী দাফন এবং সৎকারের উদ্যোগ অনেক নিঃসন্দেহে প্রসংশনীয়।

ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে এই কাজটি দায়িত্বশীলতার সাথে করছে বাংলাদেশ সোসাইটি ইউএসএ ইনক্সহ কমিউিনিটিতে সক্রিয় বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সংগঠনগুলো। ছাতা সংগঠনগুলো ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৮১জনকে দাফন করে সংগঠনের নিজস্ব কবরস্থান নিউজার্সির মালবরোতে। বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএ ইনক্ মৃত্যুবরণকারী তাঁদের সদস্যদেরকে লংআইল্যান্ডের ওয়াশিংটন মেমোরিয়ালে সমাহিত করে। এভাবেই প্রতিটি সংগঠন নিজেদের মতো করে কাজ করে যাচ্ছে।

ব্যায় বহুল এই কাজটি করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের ছাতা সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটিকে। তাই সোসাইটির পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগীতা আহবান করা হয়েছে প্রবাসীদের কাছে। ফিউনালে সার্ভিসের জন্য জন্য আর্থিক অনুদানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

এনিয়ে ফেসবুকে বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্য মাইনুল উদ্দিন মাহবুব একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। প্রবাসে নোয়াখালীর পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।

আসুন আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির পাশে দাঁড়াই। যাতে করে একজন বাংলাদেশী মৃত ভাই-বোনের লাশ গণকবরে না যায় !

------------------------------------------------

প্রিয়প্রবাসী ভাই বোনেরা,  মানব সভ্যতার দুর্বিসহ এ সমযে বাংলাদেশ সোসাইটি আপনাদের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এই মহামারিতে ইতিমধ্যেই আমরা হারিয়েছি সংগঠনের প্রাণপুরুষ সভাপতি কামাল আহমেদসহ আমাদের আরেক সহযোদ্ধা কার্যকরী সদস্য আজাদ বাকিরকে। এছাড়া প্রতিদিনই হারাচ্ছি কাউকে না কাউকে। শোকে মুহ্যমান পুরো কমিউনিটি। সোসাইটির কার্যকরী পরিষদ এবং ট্রাস্টি বোর্ড কার্যনির্বাহী কমিটির দুজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিকে হারিয়ে আমরাও গভীর শোকাহত। আমরা এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে এই দুর্দিনে কমিউনিটির পাশে থাকতে বদ্ধপরিকর।

আমাদের প্রিয় সভাপতি সদ্যপ্রয়াত কামাল আহমেদের সভাপতিত্বে উনার ইন্তেকালের কিছুদিন পূর্বে কার্যকরী পরিষদ এবং ট্রাস্টি বোর্ডের এক জরুরী সভা কনফারেন্স কলের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসী ভাই বোনদের পাশে দাঁড়াতে তার প্রস্তবনা অনুযায়ী বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব কবরস্থান সকল প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য বিনামূল্যে কবরের জায়গা ছাড়াও ফিউনারেল সহযোগিতার জন্য আরো ৫’শ ডলার একই সাথে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য সমপরিমাণ অর্থ সহযোগিতা দেওয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিলো।

বর্তমান কার্যকরী পরিষদ সেই সিদ্ধান্তের আলোকে ইতোমধ্যে প্রায় ৭৮জন প্রয়াত প্রবাসীকে তাঁদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শেষ যাত্রার আনুষ্ঠানিকতার বড় একটা অংশের সহযোগিতা করতে পেরেছে সোসাইটি। যার মধ্যে ৭৩ জনকে বাংলাদেশ সোসাইটির কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে এবং দুইজন অন্য রাজ্যের প্রবাসীকে ফিউনারেলের জন্য অর্থ সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে বাকী ৩জন প্রবাসী অন্য ধর্মাবলম্বী হয়া তাদেরকে সমপরিমাণ অর্থ সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। এইমধ্যে কিছু সংখ্যক পরিবার সোসাইটির কবরের নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করেছেন। আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি প্রায় প্রতিদিন দু’চারজন প্রবাসীকে হারাচ্ছি এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা পাশে থাকার চেষ্টা করছি। আন্তরিক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেককে চাহিদামত অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতে পারছিনা বলে আমরা অত্যন্ত দুঃখিত।

প্রিয় প্রবাসী ভাইবোনেরা, আপনাদের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি স্টেট বা ফেডারেল গভমেন্টের ফান্ডিংএ চলেনা। এই সংগঠনটি আপনাদের অনুদানে পরিচালিত হয়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে সোসাইটিকে আপনারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। মানব সভ্যতার সবচেয়ে এই সংকটকালীন সময়ে প্রবাসের হৃদয়বান মানুষের আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সোসাইটির মত একটি সংগঠন থাকতে আমরা কোন অবস্থায় চাইনা আমাদের কোন ভাই-বোনের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে গণকবরে সমাহিত করা হোক। তাই আমরা আশা করি আমাদের এই উদ্যোগে আপনারাও সামিল হবেন। আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন ফিউনারেল সার্ভিসটি অত্যন্তব্যয়বহুল আপনাদের সহযোগিতা পেলে সময়ের কাছে অসহায় মানুষগুলোকে সোসাইটির পক্ষ থেকে আরো বেশি সহযোগিতা করতে পারবো। সবাই মিলে একসাথে এ দুর্যোময়মুহুর্র্ত পার করবো ইনশাআল্লাহ ।

আব্দুর রহিম হাওলাদার-৯১৭ ৩০১ ২০৬৩, আবুল খালেক খায়ের-৯১৭ ৪০৬ ৮৬৬১, রুহুলল আমীন সিদ্দীকি ৯১৭ ৪৭৬ ৫৩৮২, মোহাম্মদ আলি ৯১৭ ৩০২ ০৪৪৩, সৈয়দ এম কে জামান ৭১৮ ৫০২-৭২৮৪, আবুল কালাম ভূইঁয়া ৯১৭ ৮৯২ ৭১৯৯, মনিকা রায় ৩৪৭ ৪৫৯ ৮৯৯৮, রিজু মোহাম্মদ ৭১৮ ৫৮১ ৬৬৩৭, নাদির এ আইয়ুব ৩৪৭ ৬৮৬ ৫৬৬৭, নাসির উদ্দিন আহমেদ ৬৪৬ ২১৭ ৯১৩৫, মো নওশেদ হোসেন ৬৪৬ ৩৩৮ ২২৪৫, আহসান হাবিব ৬৪৬ ৩৩১ ৩৮৯২, ফারহানা চৌধুরি ৭১৮ ৬৯৭ ৯০৩৫, মাইনুল উদ্দিন মাহবুব ৭১৮ ৩১২ ৯৭২১, মো সাদী মিন্টু ৭১৮ ৮২০ ৩৬১৯, আবুল কাসেম চৌধুরি ৬৪৬ ৫১০ ৬২৪৫, সারোয়ার বাবু ৩৪৭ ৬৬৫ ৭৫৮০।

ফিউনারেল সার্ভিসের জন্য অনুদানের চেক পাঠাতে পারেন বাংলাদেশ সোসাইটির অফিসের ঠিকানায়

Bangladesh Society Inc , 86-24 Whitney Ave. Elmhurst, NY 11373

ডাইরেক্ট ডিপোজিট করতে পারেন বাংলাদেশ সোসাইটির ব্যাংক একাউন্টে (ফিউনারেল ফান্ড)

TD Bank,

Bangladesh Society Inc.

A/C# 4341028151

" সোসাইটিতে পাঠানো আপনার অনুদান সম্পূর্ণ আয়কর মুক্ত


মন্তব্য লিখুন :