নিউয়র্কে গৃহবন্দি মানুষের ঈদের নামাজে করোনা থেকে মুক্তির প্রার্থনা

এক বৈরী পরিবেশে রোববার পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছে নিউয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশীরা। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রত্যাশা ছিলো হয়তো মাহে রমজানে করোনো পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে, আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপন করবে ঈদ। তা হয়নি, বাড়িতে বাড়িতে জামাাতে ঈদের নামাজ পড়েছেন গৃহবন্দি বাসিন্দারা। সামাজিক দুরত্ব মেনে এবং নিজস্ব আঙ্গিকে অগণিতি ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে ঘরে, উঠানে। খুৎবায় এবং নামাজ পরবর্তি মোনাজাতে করোনা থেকে মুক্তির প্রার্থনা করেছেন মুসুল্লীরা। যেনো দ্রুত স্বাভাবিক পরস্থিতি ফিরে আসে, প্রার্থনার জন্য মসজিদগুলো অবারিত হয় মুসুল্লীদের জন্য।

নিউইয়র্কের বাংলাভাষার টিভি চ্যানেল এবং পত্রিকাগুলোর ঈদের নামাজ লাইভ কভারেজ, পরিচিত এবং স্বজনদের নামাজ পরিবর্তী সময়ে কোলাকুলি শুভেচ্ছা বিনময় এবার অনেকটাই অনুপস্থিত। ঘরে ঘরে যারা নামাজ আদায় করেছেন পরিবারের সদস্যরা হয়তো আলিঙ্গন করেছেন একে অপরকে। এরবাইরে ভিডিও কনফারন্সেই সীমাবদ্ধ ছিলো ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়।

করোনা সংক্রমন ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২০ মার্চ নিউইয়র্কে প্রথম মৃত্যুর খবর আসে বাংলাদেশী কমিউটিতে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এসংখ্যা দাড়িয়েছে ২৬৪জনে। প্রবীন ব্যাক্তিত্ব, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট, ব্যাবসায়ী, সাংবাদিক, চিকিৎসক, মুয়াজ্জিন, প্রযুক্তিবিদ, নিউইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তা, এমটিএ কর্মকর্তা, ব্যাংকার, গৃহিনী থেকে শুরু করে নানান বয়সের এবং শ্রেণী পেশার মানুষসহ কমিউিনিটির অগণিত পরিচিত মুখকে হারিয়ে প্রবাসীরা আতংকিত এবং শোকাচ্ছন্ন। ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে কবে নাগাদ সেটি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই মুসলমানদের মাঝে পবিত্র ঈদুল ফিতর আসে। 

গত ২২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া লকডাউন ছিলো ১৫ মে পর্যন্ত। যা বর্ধিত হয়েছে ৬জুন পর্যন্ত। তাই নিউইয়র্কের দুই’শর বেশী মসজিদ এবং ইসলামিক সেন্টারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি বিগত সময়ের মতো। কিছু কিছু মসজিদ এবং ইসলামিক সেন্টারে ইমাম, মুয়াজ্জিনের বাইরে সীমিত সংখ্যক মুসুল্লী নামাজ আদায় করেছে। বেশীর ভাগ প্রবাসীই ঘরে নিজেরা জামায়াতে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। বাসায় বাসায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঈদের নামাজে উৎসবের ঘাটতি ছিলো না।

তবে; দীনি শিক্ষায় শিক্ষিতরা নিজেদের আবাসস্থলে ঈদের জামায়াতে খুৎবা দিয়েছেন। এক্ষেত্রে ব্যাচেলরদের বাসা এবং যাদের ব্যাক ইয়ার্ডে ছিলো সেখানে সামাজিক দূরত্ব মেনে ঈদের নামাজের আয়োজন ছিলো চোখে পড়ার মতো। নামাজ শেষে খুৎবায় এবং মোনাজাতে করোনার ভয়াবহতা থেকে মুসলিম উম্মাহসহ বিশ্ববাসীকে সুরক্ষার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ প্রার্থনায় শরিক হন মুসুল্লীরা। ব্রুকলিন, কুইন্স এবং ব্রংঙ্কসে এমনটি দেখা গেছে বেশী। 

কুইন্সের ওজনপার্কে দেখা যায় দুই বাড়ির মাঝখানের ব্যাক ইয়ার্ডে সামাজিক দূরত্ব মেনে দুইবাড়ির বাসিন্দা ও স্বজনরা ঈদের জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করছেন। ব্রুকলিনের ইউক্লিড এলাকায়ও চোখে পড়েছে এমন চিত্র। চার্চ ম্যাকডোনাল্ডে বাসায় ঈদের জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন প্রবাসী ব্যাচেলররা। এভাবে প্রতিটি এলাকায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এরবাইরে যার যার বাসায় নিজেরাই জামাতে নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীরা।

গত কয়েকবছর ধরে নিয়মিত ঈদের নামাজ কভার করে আসা নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটির পরিচিত মুখ সাংবাদিক চ্যানেল টিটির এডিটর শিবলী চৌধুরী কায়েসের মতে- এমন ঈদ ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীরা প্রত্যাশা করেনি। সবার মাঝে ধারণা ছিলো রমজানে করোনার প্রাদুর্ভাব কেটে যাবে হয়তো। যেহেতু সেটা হয়নি, তাই সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিজস্ব আঙ্গিকে সবাই জামাতে নামাজ আদায় করেছে। 

চার্চ ম্যাকডোনাল্ডে নিজেদের ব্যাচেলর বাসায় ঈদের জামাতে ইমামতি করেন হাফেজ আলী আহসান। বাসায় জামাত আদায় করা প্রসঙ্গে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সন্তুষ্টি জানিয়ে তরুন এই কুরআনে হাফেজ বলেন- মহামারির কারণে বাধ্যবাধকতা থাকায় গণজমায়েত করা যায়নি ঈদের জামাতে। তবে; ঘরে জামাতে কিছুটা হলেও ঈদের আমেজ অনুভব করেছে সবাই। নামাজ আদায় করতে পারায় তিনি নিজেও আপ্লত হয়েছেন,  আল্লাহ যেনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে দেন এবং আগামিতে সহিসালামতে নামাজ আদায় করতে পারেন সেজন্য তিনি মহান রাব্বুল আলআমিনের দরবারে প্রার্থনা করেন।

মন্তব্য লিখুন :