নোয়াখালী-কুমিল্লা মহাসড়ক

জোড়াতালি দিয়ে গর্ত ভরাট, ঝাঁকুনিতে যাত্রীদের অবস্থা কাহিল

নামমাত্র সংস্কারের ফলে আবারো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে নোয়াখালী-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে। মহাসড়কের নোয়াখালী অংশের ১৪ কিলোমিটার জোড়াতালি দিয়ে গর্ত ভরাট করায় এমন গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যানবাহনের ঝাঁকুনিতে এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের অবস্থা কাহিল। যেগুলো দ্রুত সংস্কার না করলে ভারি বৃষ্টিপাতে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে উঠবে বলে জানান যানবাহনের চালকেরা।
চৌমুহনী চৌরাস্তা থেকে সোনাইমুড়ীর চাষিরহাটের উত্তরে কুমিল্লা সীমান্ত পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়ক জুড়ে আগের মত বড় বড় গর্ত নেই। তবে; ইট ফেলে গর্ত ভরাট করে উপরে হালকা কার্পেটিং করে দেওয়ায় হয়েছে বলে সহজেই বুঝা যায়। এরপরও সড়কের চাষিরহাট, ইসলামগঞ্জ বাজার, বজরা এলাকায় কিছু ছোট গর্ত রয়ে গেছে। গত ক’দিনের বৃষ্টিতে গর্তগুলো ক্রমেই বড় হচ্ছে। এছাড়া পুরো সড়ক সংস্কার না করে শুধু মাত্র গর্ত ভরাট করায় সড়ক হয়ে গেছে অ্যাবড়ো-থেবড়ো ও উঁচু-নিচু। এতে যানবাহন চলাচলকালে প্রচন্ড ঝাঁকুনি হয়।
সড়কের সোনাইমুড়ী বাইপাসে কথা হয় যাত্রীবাহী বাস নিলাচল পরিবহনের চালক জহিরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, সড়কটির কুমিল্লা অংশের তুলনায় নোয়াখালী অংশ অনেক ভালো। তবে সড়কের গর্তগুলো ভরাট করার পাশাপাশি পুরো সড়ক কার্পেটিং করে দিলে ভালো হত। তা না করায় সড়কে গর্তের স্থানগুলো কোথায়ও উঁচু, কোথাও নিচু হওয়া গাড়ি চালানোর সময় প্রচন্ড ঝাঁকুনি হয়। এতে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালানো কষ্টকর হয়। আবার যাত্রীরা ছিল্লাছিল্লি করে।
অপরদিকে সোনাইমুড়ীর ইসলামগঞ্জ বাজারে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী একটি বাস থেকে নামা যাত্রী রইস উদ্দিন জানান,  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে এই সড়কে বাস প্রবেশের পরই শুরু হয় ঝাঁকুনি। ঝাঁকুনির তোড়ে যে কোন সুস্থ মানুষেরই ভয়ে বুকের ভেতর ধড়পড় করে। গাড়িগুলো পাল্লা দিয়ে চলতে গিয়ে যাত্রীদের অবস্থা আরও কাহিল করে তোলে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী বিনয় কুমার পাল এ প্রতিনিধিকে বলেন, সড়কটি নোয়াখালী অংশের ১৪ কিলোমিটারের কোথায়ও কোনো সমস্যা নাই। যেসব গর্ত ছিল সেগুলো ভরাট করে দেওয়ো হয়েছে। তা ছাড়া সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার কাজও শিগগিরই শুরু হবে। ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন :