কোম্পানীগঞ্জে অননুমোদিত মানহীন শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সয়লাব

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র গড়ে উঠেছে অননুমোদিত মানহীন অসংখ্য শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ব্যাঙের ছাতা ন্যায় গড়ে উঠা এসকল শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও। ক্যাডেট একাডেমী, ক্যাডেট স্কুল, বিভিন্ন নামে বা এলাকা ভিত্তিক নামে কিন্ডার গার্ডেন স্কুল, একাডেমী, কাওমি মাদ্রাসা, হিফজ (হাফেজিয়া) মাদ্রাসা ও ক্যাডেট মাদ্রাসা। 

অনুমোদনহীন এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিযোগ দেয়া হয়েছে নাম মাত্র বেতনে মানহীন শিক্ষায় স্বল্প শিক্ষিত যুব ও নারীদের। হাতে গোনা কয়েকটি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠা ব্যাতিত বড় অংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুরা শিক্ষার নামে প্রতারিত হচ্ছে বলে সর্বমহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। অথচ সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততায় উপজেলার শিশু শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত ঝুঁকিতে পড়ছে।

নতুন বছরকে টার্গেট করে অননুমোদিত মানহীন ওই সকল কিন্ডার গার্টেন স্কুল, একাডেমী, নুরানী, কাওমি মাদ্রাসার শিক্ষকও মালিকপক্ষ ছুটে বেড়াচ্ছেন এলাকা থেকে এলাকায় উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলজুড়ে। শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের আকৃষ্ট করার জন্য রাস্তার আশ-পাশে, মোড়ে, গুরুত্বপূর্ণস্থানে টাংগানো হয়েছে নানা রং-বেরংয়ের ব্যানার, ফেষ্টুন, রঙ্গিন পোষ্টার ও লিফলেট। কোন কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ  প্রশ্ন সাপেক্ষ সাফল্য গাঁথা পরিসংখ্যান সমৃদ্ধ মিথ্যা প্রচারণাও চালাচ্ছে। একই সাথে প্রচারণায় পিছিয়ে নেয় এলাকা ভিত্তিক ও এলাকার বাহিরে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারগুলো মালিক বা পরিচালনা কর্তৃপক্ষ। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদের মূল প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখস্থলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা সমৃদ্ধ অনেক ব্যানার ও ফেষ্টুন। প্রতিযোগিতা মূলক ভাবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি ও প্রচার নিয়ে ব্যানার, ফেষ্টুন ও পোষ্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে নানা স্থানে বাক-বিতন্ডা, হাতা-হাতি মারামারির ঘটনাও ঘটছে। এক এলাকায় অন্য এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি সংক্রান্ত ব্যানার পোষ্টার লাগানো হলে সেগুলো কচি-কাচা শিশুদের দিয়ে ছিড়ে ফেলার ঘটনাও বিস্তর ঘটছে। 

এলাকার অবসরপ্রাপ্ত, প্রবীণ বেশ কয়েকজন শিক্ষাবিদ জানান, এখনই সরকারী অনুমোদনহীন ও মানহীন এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের একটি বড় গুরুতপূর্ণ অংশ শিশু শিক্ষার্থীরা শিক্ষার নামে প্রতারিতই হতে থাকবে। আর অর্থলোভী একটি গোষ্ঠি শিক্ষার নামে বাণিজ্যই করতে থাকবে। 

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রত্যন্ত এলাকায় অননুমোদিত মানহীন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ইলিয়াছ জানান, এধরেনের ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তার দপ্তর অবহিত আছে। তবে এগুলোর কোন সরকারী অনুমোদনও নাই এবং এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেখাশুনা কাদের দায়িত্ব তাও তার জানা নেই। 

মন্তব্য লিখুন :