করোনা আতঙ্ক : সোনাইমুড়ীতে প্রশাসনের তৎপরতা, জরিমানা

করোনা ভাইরাসের সংক্রমন প্রতিরোধে অবশেষে মাঠে নেমেছে সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রশাসন। একই সাথে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে মুনাফা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ৮ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে।

প্রবাসী অধ্যুষিত নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমন থেকে সুরক্ষায় স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা থাকলেও অনেকেই তা মানছেননা । ১৪ দিন ঘরের মধ্যে একা থাকার কথা থাকলেও অনেকেই প্রকাশ্যে লোকালয়ে ঘোরাফেরা করছেন। 

জানা যায়, গত এক মাসে চীন, ইতালি, সৌদি আরব, কাতার, স্পেন, আফ্রিকা, মালেশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সহ¯্রাধীক প্রবাসী সোনাইমুড়ীতে এসেছে। অনেকে প্রকাশ্যে কেনাকাটা করছেন।  এতে এলাকাবাসীর মাঝে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। আতঙ্কে রয়েছে জনসাধারণ। 

এনিয়ে অবশেষে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে অবশেষে প্রশাসনের তৎপরতা দেখা গেছে। করোনা ভাইরাস নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এলাকায় মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে স্ব স্ব ইউনিয়নে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

এদিকে করোনা ভাইরাসকে পূঁজি করে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রির খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট টিনা পাল ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে সোনাইমুড়ী বাজারে ৮ জন ব্যবসায়িকে জরিমানা করেছেন। তারা হলো  শ্রী দুর্গা ভান্ডার ১ হাজার, আহসান স্টোর ২ হাজার, হোসেন এন্ড সন্স ২ হাজার, মিলন ট্রেডার্স ৫শ, এইচপি ট্রেডার্স ১হাজার, মোল্লা স্টোর ২ হাজার, বনডেড এন্ড ভান্ডার ২ হাজার ও শাহীন ট্রেডার্স ৫ হাজার টাকা ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট টিনা পাল জানান, করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের লক্ষে উপজেলার অন্ধকল্যাণ সমিতি আই হসপিটলে সেফ হোম কোয়ারেন্টাইন হিসেবে রাখা হয়েছে। সোনাইমুড়ীতে করোনা ভাইরাস নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার পৌর এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। ১০টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানগণ স্ব-স্ব এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার জন্য কমিটি গঠণ করা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাইনুল ইসলাম জানান, পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্টের (ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম) ব্যবস্থা না থাকায় ডাক্তার ও নার্সরা ঝুঁকিতে রয়েছে।

সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুস সামাদ পিপিএম বলেন, কেউ কোয়ারেন্টাইন না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

মন্তব্য লিখুন :