বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদক পেলেন সাংবাদিক জাহিদ

রিপোর্টিংয়ে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদক-২০২০’ পেয়েছেন দৈনিক সমকালের স্টাফ রিপোর্টার জাহিদুর রহমান। গ্রামীণ জীবনযাত্রা নিয়ে অনুসন্ধানী ও সৃজনশীল প্রতিবেদনের জন্য ‘গ্রামীণ সাংবাদিকতা’ ক্যাটাগরিতে তাকে এই পদক প্রদান করা হয়। গত বছর ‘হাওরের কান্না’ শিরোনামে সমকালে প্রকাশিত পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য মনোনীত হন তরুণ সাংবাদিক নোয়াখালীর কৃতি সন্তান জাহিদুর রহমান।

প্রতিবছর মহামান্য রাষ্ট্র্রপতি বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন। এবার করোনার কারণে রাষ্ট্রপতির পক্ষে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন। শনিবার (২৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর কাকরাইলে তথ্য ভবন মিলনায়তনে এই পদক দেয়া হয়। 

প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, প্রেস কাউন্সিল সদস্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আবদুল মতিন খসরু এমপি এবং মোজাফফর হোসেন পল্টু, প্রেস কাউন্সিল পদক জুরিবোর্ডের চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং কাউন্সিল সদস্য নঈম নিজাম অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

এরআগে ২০১৪ সালে জাহিদুর রহমান ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড প্রিন্ট ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পান। ২০১৮ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির দুর্নীতি বিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার পান তিনি। এ ছাড়া একশন এইড বাংলাদেশের গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তা; ব্যবসা ও মানবাধিকার; গৃহস্থালির সেবা; আইন ও শালিশ কেন্দ্রের জেন্ডার ইস্যু; বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) থেকে সংবেদনশীল সাংবাদিকতায় ফেলোশিপ পেয়েছেন। তিনি ২০০৯ সালে ফিচার প্রতিযোগিতায় ‘আলোকিত ফেনী’ পুরস্কার এবং ২০০৪ সালে ম্যাসলাইন মিডিয়া সেন্টার (এমএমসি) প্রবর্তিত ‘প্রাকৃতজন’ পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৯ সালে কিশোর-কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন সমস্যা নিয়ে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে রেড অরেঞ্জ মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশনের ঋতু প্রকল্প থেকে গ্রহন করেন ফেলোশিপ এবং অ্যাওয়ার্ড। সংবাদের সামাজিক প্রভাবের কারণে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে ইয়ুথ স্কুল ফর সোশ্যাল এন্টারপ্রেনারস (ওয়াইএসএসই) প্রবর্তিত পুরস্কার লাভ করেন। খাদ্য অধিকারবিষয়ক রিপোর্টিংয়ের জন্য ২০১৮ সালে জাহিদকে ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে ‘খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-(খানি)’। চলতি বছরে তিনি একশন এইড বাংলাদেশে প্রবর্তিত 'ইয়ং জার্নালিস্ট ফেলোশিপ' এবং 'ইয়ং জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ড' পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৭ সালে রিয়্যাল এস্টেট বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদনের জন্য ‘আবাসন নিউজ’ বর্ষসেরা সাংবাদিকতা পুরস্কার অর্জন করেন। চলতি বছর পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মিডিয়া ফেলোশিপ পান জাহিদুর রহমান। পাশাপাশি দৈনিক সমকালের দুইবার ‘সেরা রিপোর্টারে’র পুরস্কার পান জাহিদ। 

জাহিদুর রহমান নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পূর্বচরবাটা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এটিএম লূৎফুর রহমান ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির ৭ সন্তানের মধ্যে তিনি পঞ্চম। তার বাবা ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা করেন। তিনি অবসর নিলেও এখনও এলাকায় শিক্ষাসহ সমাজ সেবামূলক নানা কাজে যুক্ত রয়েছেন।

জাহিদ বেগমগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি, একই কলেজ থেকে এইচএসসি ও স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

জাহিদুর রহমান নোয়াখালীর স্থানীয় ‘লোকসংবাদ’ পত্রিকায় ২০০২ সালে ‘তৃণমূল সংবাদকর্মী’ হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন। কাজের ধারাবাহিকতায় ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালে ‘চলমান নোয়াখালী’তে স্টাফ রিপোর্টার এবং ২০০৬ থেকে ২০০৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দৈনিক ‘জাতীয় নিশানে’ বার্তা সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর জাহিদ ২০০৯ সালে ঢাকায় চলে আসেন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত নিউজ এজেন্সি ‘ফোকাস বাংলা’য় সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ২০১০ সালে তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘শীর্ষ নিউজ ডটকমে’ একই পদে যোগদান করেন। এরপর তিনি ২০১১ সালের শেষের দিকে ‘দৈনিক স্টক বাংলাদেশ’, ‘স্বাধীন মত’ ও ‘বাংলামেইল’-এ সহ-সম্পাদক পদে কাজ করেন। সর্বশেষ তিনি ২০১৩ সালের মার্চে সহ-সম্পাদক পদে ‘সমকালে’ যোগদান করেন। চলতি মাস থেকে তৈনি সমকালে স্টাফ রিপোর্টার পদে কাজ করছেন। সমকালের পাশাপাশি বিভিন্ন সাময়িকীতে লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন :