সুষ্ঠু নির্বাচননের দাবিতে কোম্পানীগঞ্জে মীর্জা কাদেরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি, টেন্ডারবাজি ও সাংগঠনিক অনিয়মের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র সেতু মন্ত্রীর ছোট ভাই মীর্জা আব্দুল কাদেরের নেতৃত্ব স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে আচরণবিধি সংক্রান্ত সভা বর্জন করে তাঁর নেতৃত্বে সকাল ১১টার পর থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলে। মীর্জা কাদের অসুস্থ অবস্থায় বিক্ষোভস্থলে শুয়ে কর্মসূচী চালিয়ে যান।

বিকালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম বিক্ষোভস্থলে পৌঁছলে তাঁর  উপস্থিতিতে ফেনী, নোয়াখালী জেলা, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জে নানা অনিয়ম, টেন্ডারবাজি, দলের নামে টেন্ডার থেকে কমিশন আদায়সহ বিভিন্ন বিষয়ে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বক্তব্য দেন মীর্জা কাদের । এসময় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফেনীর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। এছাড়া ১৬ জানুয়ারি নির্বাচনের পর সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান বেলায়েতের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। এবং তাঁর অনুরোধে মীর্জা কাদের কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ ও দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, আগামী ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন কে কেন্দ্র করে সকাল ১০টায় আচরণবিধি সংক্রান্ত এক সভা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শুরু হয়। এতে জেলা প্রশাসক খোরশেদ আলম খান,পুলিশ সুপার আলমীগ হোসেন, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার রবিউল আলম সহ স্থাণীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা  উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা নির্বাচনে তার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলাসহ নির্বাচনী আচরনবিধি ভঙ্গের নানা অভিযোগ তোলেন। এছাড়া নির্বাচন বানচাল করার জন্য আশপাশ থেকে বেশ কিছু অস্ত্র শস্ত্র এলাকায় কতিপয় ব্যাক্তির যোগসাজসে আনার অভিযোগ করেন। অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে কি কি সমস্যা বিরাজমান   তা নিয়ে প্রায় ২০ মিনিট   তিনি বিস্তারিত বক্তব্য দেন এবং অপকর্মের পিছনে যারা যারা জড়িত  সভায় তাদের নাম প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করেন। বক্তব্যে তিনি সেতু মন্ত্রীর স্ত্রীসহ একাধিক সাংসদকে বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এই সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুনির্দিষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে কথা বলার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবদুল কাদের মির্জা সভাস্থল ত্যাগ করেন। পরে তার সমর্থকরা নানা ধরনের আপত্তিকর স্লোগান দেয়। এসময় তারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রত্যাহার দাবি  করেন। সভাত্যাগ করে পৌরসভায় গিয়ে তিনি অসুস্থবোধ করলে প্রথমে বাড়িতে চলে যান। পরবর্তীতে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে জিরো পয়েন্টে বঙ্গবন্ধু চত্বরে অবস্থান নেন। এসময় রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয়।

সমাবেশে আবদুল কাদের মির্জা শান্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌরসভা কে আশান্ত করার পিছনে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী, ফেনীর সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলসহ কতিপয় ব্যাক্তির ইন্দন রয়েছে বলে অভিযোগ করেন এবং তাদের যোগসাজসে আগামী ১৬ জানুয়ারি বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচন বানচাল করে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র করছে। বিক্ষোভ সমাবেশে এসময় উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত,সাধারন সম্পাদক নুর নবী চৌধুরী,উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আজম পাশা রুমেলসহ স্থানীয় নেতা কর্মীরা। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান জানান ,  মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা নানা বিষয় নিয়ে প্রায় ২০ মিনিট টানা বক্তব্য দেন। পরে তিনি  রাগ করে  সভাস্থল ত্যাগ করেন। আমরা তাকে বার বার অনুরোধ করার পরও তিনি শোনেনি। পরে তিনিও তার অনুসারিরা বসুরহাট জিরো পয়েন্টে বঙ্গবন্ধু চত্বরে জড়ো হন।  এসময় তারা সড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন দেয়। শহরে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন। পরে আবদুল কাদের মির্জা সেখানে শুয়ে পড়লে তারা সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। 

তবে; জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও নোয়াখালী -৪ সদর সুবর্ণচর আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, ‘কি কারণে আবদুল কাদের মির্জা আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের আপত্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন তা আমার জানা নেই’ । দলীয় বিষয় কারো কোন বক্তব্য থাকলে তা দলীয় ফোরামে এসে বলা ভালো। 


মন্তব্য লিখুন :