মীর্জা কাদেরের নরম সুর!

গত ক’দিন ধরে একের পর এক বক্তব্য প্রধান করে নোয়াখালীসহ দেশজুড়ে আলোচনায় থাকা নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ও সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই মীর্জা আব্দুল কাদেরের কন্ঠে নরম সুর শোনা গেছে। তিনি ধারণাপ্রসূত ও শোনা কথার ভিত্তিতে বলেছেন বিএনপি প্রার্থীকে একরামুল করিম চৌধুরীর টাকা ও অস্ত্র দেওয়ার কথা। তিনি বলেছেন বিবেকের তাড়নায় এসব বলেছেন। নির্বাচনের আগের দিন শুক্রবার সকাল ১০টায় পৌরভবনে একাত্তর টিভিকে দেওয়া স্বাক্ষাৎকারে তিনি এসব বলেন। এসময় গতক’দিন ধরে তাঁর চেহারার যে তেজীভাব দেখিয়েছেন সেটিও দেখা যায়নি। আগের বক্তব্যগুলোর মতোই এই স্বাক্ষাৎকারও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

নির্বাচনের শেষ মুহুর্তের প্রচারনায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী কামাল উদ্দিন চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনা মির্জা কাদেরের বক্তব্যের সমালেচনা করে বলেন, তিনি সত্য বচন করেন কিন্তু তিনি কিভাবে বললেন বিএনপির নেতার মাধ্যমে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীর তাকে এক কোটি টাকা দিয়েছে ভোট করার জন্য  এবং অস্ত্র দিয়েছে।  কি প্রমান আছে মির্জা কাদেরের কাছে ?

এ বিষয়ে আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, লোক মাধ্যমে তিনি শুনেছেন । তার কাছে রির্পোট আছে। তাছাড়া যে নোয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ আজাদের সাথে ে একরামুল করিম চৌধুরী এমপির ভালো সখ্যতা রয়েছে। এটি নোয়াখালীর সবাই জানে।  সে বিএনপি নেতা দিনে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা না এসে রাত ১২ টার পর  কেনো কামাল উদ্দিন চৌধুরীর সাথে দেখা করে। নেতা দিনে আসবেন ভোট করতে, রাতে নেতার কি কাজ? এ নিয়েও নানা গুঞ্জন রয়েছে। তারা কোথায় কোথায় বৈঠক করেছে তার তথ্য ও  তার কাছে রয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন- আপনারা যদি কাউকে এই প্রশ্ন করেন তিনি স্বীকার করবে ? তাছাড়া কেউতো স্বীকার করবে না তাদের কাছে অস্ত্র ও  টাকা এসেছেন।


ভবিষ্যতে এ আসনের এমপি অথবা জাতীয় নেতা হওয়ার জন্য আপনার এ ধরনের বক্তব্য কিনা জানতে চাইলে আবদুল কাদের মির্জা বলেন,প্রশ্নই আসেনা। আমি এমপি বা জাতীয় নেতা হওয়ার মত আমার কোন যোগ্যতাই নেই। সে মানসিকতা ও রাখি না।  আমি একজন কর্মী হয়ে  বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কাজ করে যেতে চাই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা, শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা ,ওবায়দুল কাদেরের উন্নয়নের কথা,মানুষের সুখ দুঃখের কথা বলে যেতে চাই। 

অনেকেই মনে করছেন একসাথে থাকলে স্বার্থের দ্বন্ধের কারণেই আপনি দল ও নেতাদের সমালোচনা করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, ঠিক আছে স্বার্থ যেখানে দ্বন্ধ সেখানে। কিন্তুু আমার সাথে এগুলোর কিছুই নেই। আমি আমার বিবেকের তাড়নায় এসব কথা বলছি। এ অনিয়ম অব্যবস্থা দেশে চলতে পারে না। যখন যারাই ক্ষমতায় থাকে তারা মনে করে দেশের মালিক তারাই। এ ব্যবস্থা চলতে দেয়া যায়না। বঙ্গবন্ধু স্বাধীণতা এ জন্য এনে দেয়নি। তিনি আরো বলেন, অতিথে যারা ক্যান্টমেন্ট থেকে এসে ক্ষমতা দখল করেছে তাদের আমল আর আমাদের আমল অনেক পার্থক্য আছে। তাদের রাজনীনিতি আর আমাদের রাজনীনিতির মধ্যে পার্থক্য আছে। এসব কিছু বিবেচনায় আনা উচিত জাতীয় নেতৃবৃন্দের। 

আবদুল কাদের মির্জা বলেন, আমি স্বর্তস্ফুত সমর্থন পেয়েছি। ভোটের প্রচারানা দেশের গান বাজিয়ে আমি ভোটারদের ভালোবাসা  ও দোয়া পেয়েছি । আজ (শুক্রবার) সকালেও ভোটারদের কাছে গিয়েছি। তবে আমি ভোটারদের কাছে যে সাড়া পেয়েছি তাতে আশাবাদী আমি ইনশাল্লাহ আগামীকাল (শনিবার) ভোটে জয়ী হবো। তারা আমার পক্ষেই রায় দিবে।


মন্তব্য লিখুন :