চীরনিদ্রায় শায়িত সাংবাদিক মুজাক্কির

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির চীরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। রোববার রাত সাড়ে ৮টায় নামাজে জানাজা শেষে উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, এলাকাবাসী ও  শোকার্ত মুসুল্লীদের ঢল নামে। 

এর আগে রোববার সন্ধ্যার পর ঢাকা থেকে স্বজনরা মুজাক্কিরের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে পৌঁছলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। মা-বাবা, ভাই-বোন, স্বজন এলাকাবাসী কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে উঠে। সেখানে একনজর দেখার পর  স্থানীয় আজগর আলী দাখিল মাদ্রাসা মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায়  কোম্পানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, কবিরহাট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আলাবক্স তাহের টিটু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান আরমান, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান আদনানসহ মুজাক্কিরের সহকর্মী, সহপাঠিসহ বিপুল সংখ্যক মুসুল্লী উপস্থিত ছিলেন। জানাজা নামাজ পরিচালনা করেন নিহতের বড় ভাই নূর উদ্দিন মোহাদ্দেছ।

এর আগে মুজাক্কিরের মৃত্যুর খবরে শনিবার রাত থেকে রোববার দিনভর তার বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের আহাজারি চলে। এমন মৃত্যুর খবরে তাদের বাড়িতে আসা স্বজন ও প্রতিবেশীদের ধরে মুজাক্কিরের পিতা নোয়াব আলী মাস্টারের আহাজারী, মায়ের আহাজারীতে এলাকায় শোকের মাতম উঠে।

চরফকিরা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের নোয়াব আলী মাস্টারের ছেলে বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির (২৫) ৭ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। ২০২০ সালে নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে দর্শন বিষয়ে প্রথম শ্রেণীতে অনার্স পাস করে ¯œাতোকত্তর ডিগ্রিতে পড়াশোনা করছিলেন। সমাজ বদলের স্বপ্ন নিয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি সাংবাদিকতায় যুক্ত হন মুজাক্কির। তিনি  দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার ও অনলাইন পোর্টাল বার্তা বাজারের প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। একই সাথে একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে কাজ করতেন রক্তদাতাদের সংগঠন ইউফরইউ’র সাথে। তার মৃত্যুতের সহকর্মী ও সহপাঠিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ও নিন্দা জানায়।

শুক্রবার বিকেলে চারপরাশির হাট পূর্ব বাজারে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা অনুসারী ও উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন মুজাক্কির। এ সময় তার বুক, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির স্পিøন্টার লাগে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবীড় পরিচর্যা কেন্দ্রে শনিবার রাত পৌনে ১০টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।






মন্তব্য লিখুন :