ছেলের হত্যার বিচারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন মুজাক্কিরের বৃদ্ধ পিতা

ছেলের হত্যার উপযুক্ত বিচারে কড়জোড়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন নিহত সাংবাদিক মুজাক্কিরের বৃদ্ধ পিতা মাওলানা নূরুল হুদা মো. নোয়াব আলী মাস্টার।

ছেলের হত্যার উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের বৃদ্ধ পিতা মাওলানা নূরুল হুদা মো. নোয়াব আলী মাস্টার। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নোয়াখালী প্রেসক্লাবের শহীদ উদ্দিন এস্কান্দার কচি মিলনায়তনে পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি তোলেন। 

এসময় তিনি আরো বলেন- আমার ছেলেকে (মুজাক্কির) কে বা কারা মেরেছে আমরাতো দেখিনি। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার বিনীত আবেদন প্রকৃতপক্ষে যে আমার ছেলেকে খুন করেছে তার উপযুক্ত বিচার চাই।

বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও কোম্পানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবীতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। 

এতে লিখিত বক্তব্যে মুজাক্কিরের বড় ভাই নূর উদ্দিন বলেন, মুজাক্কির সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মকা-ে জড়িত ছিলেন। অসুস্থ্য ও মুমূর্ষ রোগীদের পাশে দাঁড়াতেন। তিনি রোগীদের প্রয়োজনে এ নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত ২৬জনকে দিয়েছেন। করোনাকালীন নিজ এলাকার অসহায় ও গরীব মানুষের দ্বারে দ্বারে খাবার এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছন। ঈদে দুঃস্থ ও এতিমদের গোপনে সহযোগিতা করতেন। 

নূর উদ্দিন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, গত শুক্রবার উপজেলার চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে আ.লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন মুজাক্কির। এসময় আহত মুজাক্কির বাঁচার জন্য বার বার আকুতি জানালেও উপস্থিত স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে নি। গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘসময় বাজারে পড়ে থাকার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মুজাক্কির মৃত্যুবরণ করেন বলে জানিয়েছেন ঢামকের চিকিৎসক। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বুরহান পড়া লেখার পাশাপাশি সংবাদিকতা করতো। কিন্তু সে কোন দলের কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিল না বলে তিনি দাবী করেন। এসময় তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুজাক্কিরকে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি নির্যাতনকারী ব্যাক্তিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।

একই বিষয়ে নিহতের মা মমতাজ বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার আদরের ছোট ছেলে মারা যাওয়ার পর আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে গতকাল (বুধবার) একটি ভিডিও দেখেছিলাম। ভিডিওতে দেখা যায় গত কয়েক মাস আগে একজন ব্যক্তি তাকে অকথ্যভাষায় গালাগালি করে মারধর করে। ওই হামলাকারী তাকে বলে ‘তোর কোন বাবা আছে?। আমি ওই হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করছি। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন নিহতের ভগ্নিপতি আবদুস সাত্তার।

প্রসঙ্গত ঃ শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে বসুরহাট পৌরসভার ময়র মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ও শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষের মুখে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক মুজাক্কির’সহ ৭-৮জন। পরে আশংকাজনক অবস্থায় মুজাক্কিরকে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে গত শনিবার রাত ১০টা ৪৫মিনিটে তার মৃত্যু হয়। মুজাক্কির অনলাইন নিউজ পোর্টাল বার্তা বাজারের নোয়াখালী প্রতিনিধি ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন :