মাইজদীতে সড়কে অবৈধ বাজার, মানুষের ভোগান্তি

জেলা শহর মাইজদীর মোহাম্মদীয়া মোড়ে সড়কের ওপর বসা সন্ধ্যাকালীন বাজার।

একরাস্তার শহরখ্যাত নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদী। যানজট যার নিত্যসাথী সেই শহরেই সড়কের ওপর রোজ বসে অবৈধ কাঁচা বাজার। ফলে দুপুরের পর থেকেই রাত ১০টা পর্যন্ত যানজট আর ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তী লেগেই থাকে। শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের মোহাম্মদীয়া মোড়ে এমন অবস্থা চলছে বছরের পর বছর। মাঝখানে লোক দেখানো অভিযানের নামে কিছুদিন বিরতির পর আর ঝেঁকে বসে এই অবৈধ বাজার। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন আর পৌর কর্তপক্ষের নাগের ডগায় এই অবৈধ বাজার বসলেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। উল্টো পৌর কর্তৃপক্ষ এজন্য দুষছেন পার্শ্ববর্তী হকার্স মার্কেটের কিছু ব্যবসায়ীকে।

সরেজমিনে ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা শহরের হলেও এখানকার শাখা সড়কগুলো পরিকল্পিত না হওয়ায় এ শহরে যানজট লেগেই থাকে। শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা পুরাতন বাসস্ট্যান্ড। এখানে যানজটের সৃষ্টি হলে বেশিরভাগ সময় হালকা যানগুলো মোহাম্মদিয়ার উত্তর পাশ হয়ে হাসপাতাল সড়ক কিংবা ফ্ল্যাটরোড হয়ে বিভিন্ন স্থানে যাতায়ত করতো। কিন্তু বিগত কয়েকটি বছর হঠাৎ করে হকার্স মার্কেটের সামনের দুটি সড়কে কাঁচা বাজার ও মাছ বাজারের পসরা বসে। এতে এ দুটি সড়কে চলাচালকারী হালকা যানবাহন ও পথচারীদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। অথচ; পৌর বাজারে সন্ধ্যাকালীন বাজারের জন্য নির্দিষ্ট শেড রয়েছে।

এপথে যাতায়তকারী শরিফ নামে একজন পথচারী জানান, দুপুরের পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সড়কদুটো দিয়ে চলাচল করা মুসকিল হয়ে পড়ে। রিকশা, অটো কিংবা মোটরসাইকেল তো দুরের কথা হেটে যাওয়া মুসকিল হয়। তাছাড়া ফ্ল্যাট মসজিদের উত্তর অংশে এসব কাঁচা বাজারের আবর্জনা ও মাছের অবশিষ্টাংশ রাখার কারণে দুর্গন্ধে অতিষ্ট তারা। 

ফ্ল্যাট মসিজদের একজন মুসুল্লী জানালেন- মসজিদের ভিতরে নামাজ পড়াও দায় হয়ে যায় দুর্গন্ধে। অনেক সময় ভিতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয় না। তারপরও তারা বাধ্য হয়ে নাজাম পড়তে হচ্ছে। ময়লা আবর্জনা পচে চর্তুদিকে দুগন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ মারাত্বকভাবে দুষিত হচ্ছে। 

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষকে অবহিত জানানো হয়েছে। এক বছর পূর্বে এখান থেকে বাজার তুলেও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতে পুনরায় আবার সবজি ও মাছের পসরা বসে পড়ে। একটি চক্র এসব সবজি ও মাছ বিক্রেতার কাছ থেকে মাসোয়ারা নিচ্ছে- এমনটি জানালেন তাঁরা।

পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি না থাকলে এভাবে রাস্তার ওপর অবৈধ বাজার বসার সুযোগ নেই। পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের নাকের ডগায় এ সবজি বাজার শহরের সৌন্দর্য যেমন নষ্ট করছে, তেমনি যানজট তৈরি করে দুর্ভোগে ফেলছে তাদেরকে। এ জন্য তারা পৌর কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। 

এ প্রসঙ্গে একজন ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতা জানালেন- তারা এখানে ভালো লাভ পাচ্ছেন। অনুমতির বিষয়টি তাঁর ভাবনার বিষয় নয়।  তবে; এখানকার স্থায়ী দোকানির সামনে বসার কারণে তাদেরকে দোকান ভেদে ৫০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এ ছাড়া একজন প্রতি দোকান থেকে প্রতিদিন ১০ টাকা হারে চাঁদা নেয়। 

এনিয়ে জানতে চাওয়া হলে নোয়াখালী পৌরসভার বাজার পরিদর্শক মিনহাজ জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ এ বাজারের অনুমতি দেয়নি। হকার্স মার্কেটের সামনে অবস্থানরত কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের ক্ষমতাবলে সড়কের দু’পার্শ্বে বাজার বসায়। এ বাজার দেড় বছর আগে বন্ধ করে দিয়েছিলো পৌরসভা। এমনকি তাদের ব্যবসা করার জন্য পৌর বাজারে স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। তারা আবার হকার্সের সামনের সড়কে কাঁচা বাজার ব্যবসা চালু করেছে। তবে যে কোনো মুহুর্তে অস্থায়ী এ বাজারটি তারা পুনঃরায় ভেঙে দিবেন বলেও জানান তিনি। 

মন্তব্য লিখুন :