মীর্জা কাদেরের নেতৃত্বে কোম্পানীগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানকে মারধরের অভিযোগ!

বীর মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ‘সত্যবচন’ খ্যাত বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মীর্জার বিরুদ্ধে। সোমবার বিকালে বসুরহাট রূপালী চত্বরে  উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কার্যালয়ের কাজ করানোর সময় তাকে মারধর ও লাঞ্চিত করার ঘটনা ঘটে। মুক্তিযুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জকে শত্রুমুক্ত করতে নেতৃত্বদানকারীদের অন্যতম অসীম সাহসী মুক্তিযোদ্ধাকে  মারধর ও লাঞ্চিত করে খিজির হায়াতকে রিকশায় তুলে দেওয়া হয়। 

এনিয়ে উল্টা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে মীর্জা সাংবাদিকদের বলেছেন তিনি খিজির হায়াতকে জনরোষ থেকে বাঁচিয়েছেন। এদিকে পুলিশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও নতুন করে ভাড়া নেওয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে খিজির হায়াত খানের নেতৃত্বাধীন গ্রুপের অবস্থানের বিষয়টি পূর্ব থেকে পুলিশকে জানানো হয়নি বলে দাবি করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খিজির হায়াত খান নেতাকর্মীদের উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কার্যালয়ে অবস্থান করেন। এখবর পেয়ে মীর্জা কাদের পৌরসভা থেকে ও শাহাদাতের নেতৃত্বে তাদের বাড়ির এলাকা থেকে পৃথকভাবে লোকজন সেখানে গিয়ে খিজির হায়াত খানের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে তার পাঞ্জাবী ছিড়ে কিল-ঘুষি মারতে থাকে এবং দলীয় কার্যালয় থেকে টেনেহেঁছড়ে বের করে দেয়। খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে সরিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান জানান, কয়েকদিন আগে দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে ভবন মালিককে চাবি হস্তান্তর করে মীর্জা কাদের। তাই নিজের মালিকানাধীন দোকানে দলীয় কার্যালয় চালু করার জন্য তিনি কাজ করাচ্ছিলেন। বিকাল বিকাল ৫টার দিকে হঠাৎ করে আবদুল কাদের মির্জা, তার ছোট ভাই শাহাদাত হোসেনসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। এক পর্যায়ে মির্জা কাদের খিজির হায়াত খানের পাঞ্জাবি ধরে তাকে বাহিরে নিয়ে এসে তাকে মারধর করে। তিনি আরো বলেন, মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও তার তার সাথে থাকা লোকজন তাকে লাথি, কিল, ঘুষি মেরে পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলে। পকেটমারকে যেভাবে মারধর করে সেভাবে আমার ওপর হামলা হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানালেও পুলিশ তাকে কোনো সহযোগিতা করে নাই। 

এ প্রসঙ্গে আব্দুল কাদের মীর্জা সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ব্যাক্তিগত অফিসে অবস্থান করছিলেন। হট্টগোলোর খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে খিজির হায়াত খানকে চলে যেতে বললে তিনি জাননি। তাঁর দাবি ছিলো নিজের ঘর থেকে তিনি কেনো যাবেন। তিনি খিজির হায়াত খানকে জনরোষ থেকে বাঁচানোর দাবি করেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তবে এ বিষয়ে এখনো থানায় কোন অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তাঁর ভাষ্য- খিজির হায়াত খান অফিসের মিলাদ পড়াবে এনিয়ে পুলিশকে আগে অবহিত করেন নি। 


মন্তব্য লিখুন :