কোম্পানীগঞ্জে আ’লীগের দু’পক্ষের গোলাগুলিতে নিহত-১, ১৪৪ ধারা জারি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষনের ঘটনায় আলাউদ্দিন (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। এসময় কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিসহ অর্ধশতাধিক ব্যাক্তি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসুরহাট বাজারে মীর্জা গ্রুপ ও বাদল গ্রুপের মধ্যেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত আলা উদ্দিন উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের চরকালী গ্রামের মমিনুল হকের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের আরএমও ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল আজিম। এছাড়া গুলিবিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা জাকির হোসেন হৃদয়কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণ করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ অপর ৯জন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে পরিস্থতির আরো অবনতি ঘটার আশংকায় বুধবার ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বসুরহাট পৌর এলাকায় ১৪৪ধারা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউল হক মীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের ওপর মীর্জা কাদেরের লোকজনের হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রূপালী চত্বরে সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ (বাদল গ্রুপ)। সন্ধ্যা ৬টার দিকে থানার পশ্চিম পাশের সড়ক (মাকসুদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়) দিয়ে সভায় হামলার চেষ্টা চালায় মীর্জার অনুসারীরা। এসময় উভয় পক্ষের সমর্থকরা মুখোমুখি হলে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে এ সংঘর্ষ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৮টার দিকে মেয়র মির্জার সমর্থকরা বসুরহাট বাজারে একটি মিছিল বের করলে বাদলের সমর্থকদের সাথে পুনঃরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষকারীরা বসুরহাট পৌরসভা প্রাঙ্গণে অবস্থান নিলে শুরু হয় গোলাগুলি। এতে পুলিশসহ আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক। সংঘর্ষকারীরা বেশ কয়েকটি ককটেলের বিষ্ফোরণ ঘটায়। ভাঙচুর করা হয়েছে দোকানপাট ও অটোরিকশা ।  

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক মীর বলেন, উপজেলা আ.লীগের দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী ও সংঘর্ষের ঘটনায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশংকায় ১০ মার্চ বুধবার ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বসুরহাট পৌর এলাকায় ১৪৪ধারা জারি করা হয়েছে। এ আদেশ চলাকালে পৌর এলাকায় ব্যক্তি, সংগঠন, রাজনৈতিক দল, গণ জমায়েত, সভা, সমাবেশ, মিছিল, র‌্যালি, শোভাযাত্রা, যে কোন ধরনের অনুষ্ঠান এবং রাজনৈতিক প্রচার প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সাথে পৌর শহরে ৪জনের বেশি লোক জমায়েত হতে পারবে না।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার কোম্পানীগঞ্জের চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে আবদুল কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ও শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষের মুখে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক মুজাক্কির’সহ ৭-৮জন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত ১০টা ৪৫মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মুজাক্কির।


মন্তব্য লিখুন :


আরও পড়ুন