কোম্পানীগঞ্জে সহিংসতায় নিহত আলাউদ্দিনকে আসামী করে মামলা !

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে চলছে পাল্টাপাল্টি মামলার প্রতিযোগীতায়। কেউ কেউ এতোটা বেসামাল যে মামলায় আসামীর নাম দেখার সুযোগও পাচ্ছেনা বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হতে পারে। ফলে হত্যা ও সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্থরা বিচার প্রাপ্তির পরিবর্তে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অস্ত্র হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছেন। মামলার এ প্রতিযোগীতায় আাদলতে দায়েকৃত মামলায় আসামী করা হয়েছে সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সিএনজি অটোরিকশা চালক ও শ্রমিক লীগ নেতা আলাউদ্দিনকে। 

একই মামলায় আলাউদ্দিনের হত্যার ঘটনায় আদালতে দায়েরকৃত মামলার বাদী ও তার ছোট ভাই এমদাদ হোসেনকেও আসামী করা হয়েছে। সোমবার নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২নং আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের বিচারক এস এম মোসলেহ উদ্দিন মিজান মামলাটি গ্রহণ করে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাদী হচ্ছেন- বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মীর্জার অনুসারী সালাউদ্দিন পিটন (৪০)। তিনি চরফকিরা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড চরকারী গ্রামের আলী আজ্জমের ছেলে।

উল্লেখ করা যেতে পারে- দায়েরকৃত এই মামলায় নিহত আলাউদ্দিন ও তার ভাই এমদাদ হোসেনকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে। এর আগে গত ১৯ ফেব্রুায়ারি চাপরাশির হাট বাজারে গোলাগুলিতে নিহত সাংবাদিক মুজাক্কিরকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া একটা ভিডিওতেও তাকে (মুজাক্কির) বাদলের চামচা হিসাবে বলতে শোনা যায় বাদলের প্রতিপক্ষের লোকজনকে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে মিজানুর রহমান বাদলের নেতৃত্বে ১০৫জন সন্ত্রাসী মেয়র আবদুল কাদের মীর্জার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা কামাল পাটোয়ারীসহ বেশ কয়েকজনকে গুলি করে জখম করে। এসময় মামলার ৩১-৫৫ আসামীবৃন্দ (৩২নং এমদাদ হোসেন ও ৩৬নং আলা উদ্দিন) গুলি ও বোমা বিষ্ফোরণ করে ভীতি সৃষ্টি করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় গত ২০ ফেব্রুয়ারি মির্জার অনুসারী সালা উদ্দিন পিটন কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। তাই ; তিনি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০৫জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত নামা আরও ১০০-১৫০জনকে আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন। 

মামলায় কোম্পানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরর ভাগিনা মাহবুব রশিদ মঞ্জু, ফখরুল ইসলাম রাহাত, উপজেলা আ.লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান, সাধারণ সম্পাদক নূর নবী চৌধুরী ও নিহত আলা উদ্দিনের ছোট ভাই এমদাদ হোসেনকে আসামী করা হয়েছে। 

উল্লেখ করা যেতে পারে- দায়েরকৃত এই মামলায় নিহত আলাউদ্দিন ও তার ভাই এমদাদ হোসেনকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে। এর আগে গত ১৯ ফেব্রুায়ারি চাপরাশির হাট বাজারে গোলাগুলিতে নিহত সাংবাদিক মুজাক্কিরকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া একটা ভিডিওতেও তাকে (মুজাক্কির) বাদলের চামচা হিসাবে বলতে শোনা যায় বাদলের প্রতিপক্ষের লোকজনকে।

প্রসঙ্গত, গত ৯মার্চ মঙ্গলবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আলা উদ্দিন নিহত হয়। এরআগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে উপজেলার চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়। পরদিন শনিবার রাত ১০টা ৪৫মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির।


মন্তব্য লিখুন :


আরও পড়ুন