নোয়াখালীতে গণধর্ষণের শিকার নারীকে মামলা তুলে নিতে হুমকি

নোয়াখালীর সেনবাগে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ (৩২)কে মামলা তুলে নিতে হুমকি দোয়ার অভিযোগ উঠেছে গ্রেফতার হওয়া আসামী ও তাদের প্রভাবশালী আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যখন কাতরাচ্ছেন নির্যাতিত গৃহবধু তখন আসছে এই হুমকি। 

শনিবার বেলা ১১টার দিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে কথা হয় চিকিৎসাধীন ওই নারীর সাথে। দেখা গেছে দুইজন নারী পুলিশের প্রহরায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গণধর্ষনের শিকার দুই সন্তানের জননী। একদিকে পাশবিক নির্যাতনের যন্ত্রনা অন্য দিকে মামলা তুলে নিতে আসামীদের হুমকি প্রদান ও চাপ প্রয়োগে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। 

ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেনবাগ থানায় গণধর্ষনের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। পুলিশ ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত স্থানীয় বীজবাগ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ ৫জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়ার পর ইউপি মেম্বার ও মামলার অন্য আসামী পক্ষের লোকজন দফায় দফায় তার বাবার বাড়ী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ও মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। তাদের হুমকিতে নারী ও তার বাবার পরিবারের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তিনি তার সর্বনাশকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন। 

নোয়াখালী জেনারেল  হাসপাতালের গাইনী চিকিৎসক নাবিলা চৌধুরী জানান, গণধর্ষনের শিকার নারী শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যাথা ও আগাতের চিহ্ন কয়েছে। তার চিকিৎসা সেবা চলছে। ধর্ষণ পরীক্ষার  জন্য নমুনা সংগ্রহ করে শনিবার বিকেলে নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল সরকারি মেডিকেল কলেজ পরীক্ষাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। ধর্ষণ ঘটনার সাত দিন পর পরীক্ষা করতে আসায় ধর্ষন আলামত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

সেনবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল বাহার জানান, গণধর্ষন মামলায় ১১ আসামীর মধ্যে ৪ জন সরাসরি ধর্ষণ জড়িত ছিলেন এবং ১ জন পাহারা দিয়েছে এবং বাকী ৬জন ধর্ষন ঘটনার শালিশ বৈঠক করে ধামা চাপা দেওয়া, ধর্ষিতার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া ও তাকে খারাপ নারী হিসাবে আখ্যা দিয়ে বেধড়প পিটুনি দিয়ে আহত করার অপরাধে আসামী করা হয়েছে। ৫জন কে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য গত ৮-১০ দিন আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে ওই গৃহবধু সেনবাগ উপজেলার কাজীরখিল স্বামীর বাড়ী থেকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট এলাকায় বাবার বাড়ীতে চলে যান। পরে ঝগড়ার বিষয়টি নারীর স্বামীর গনিষ্ঠ বন্ধু সেনবাগ উপজেলার কাজীরখিল গ্রামের দিদার কে অবগত করেন। দিদার গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে ফেনী পার্কে দেখা করতে বলেন। ওই দিন সকালে ফেনী পার্কে তার সাথে দেখা করেন গৃহবধূ। দিদার তাকে সারাদিন বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে রাতে স্বামীর বাড়ী পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সেনবাগ উপজেলার কাজীরখিল গ্রামের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে দিদার ও তার ৩ সহযোগী রাতভর নারীকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। এঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু বকর ছিদ্দিক শালিস বৈঠকে নারীর কাছ থেকে সাদা কাগজ স্বাক্ষর নিয়ে তাকে চরিত্রহীনা আখ্যা দিয়ে মেম্বারসহ ৩-৪ জন লাঠি দিয়ে বেদম পিটিয়ে আহত করে বাবার বাড়ীতে পাঠিয়ে দেন।


মন্তব্য লিখুন :