ফেনীতে সুজন এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

নানা আয়োজনে ফেনীতে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর সপ্তদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার আলোচনা সভা, কেক কাটা এবং র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। ফেনী শহরের ডক্টরস রিক্রিয়েশন ক্লাবে আলোচনা সভা আয়োজিত আলোচনা সভায় অতিথি ও বক্তরা বর্তমান প্রেক্ষাপটের আলোকে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন। একই সাথে সুজন’র কার্যক্রমের বিশদ বর্ণনা করেন।

সুজন ফেনী জেলা কমিটির সভাপতি এডভোকেট লক্ষণ বণিকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরেণ্য শিক্ষাবিদ ফেনী ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার প্রফেসর তায়বুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী জেলা আওয়ামীলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট আকরামুজ্জমান, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর রফিক রহমান ভূঞা, সরকারি জিয়া মহিলা কলেজের প্রাক্তণ অধ্যক্ষ প্রফেসর সন্তোষ রঞ্জন নাথ, প্রবীণ সাংবাদিক মাহবুবুল আলম ও নুরুল করিম মজুমদার, পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহতাব উদ্দিন মুন্না। এছাড়া বক্তব্য রাখেন দৈনিক অজেয় বাংলা সম্পাদক শওকত মাহমুদ, ফেনী পোয়েট সোসাইটির সভাপতি মুহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, সুজন পৌর কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক জাহিদ হোসেন বাবলু, পরশুরাম উপজেলা সভাপতি ইউসুফ বকুল, ফুলগাজী উপজেলা সভাপতি জহিরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, ছাগলনাইয়া উপজেলা সভাপতি কামরুল হাসান লিটন, দাগনভূঞা উপজেলা সহ-সভাপতি কিশান মোশাররফ, ফেনী সদর উপজেলা কমিটির সমন্বয়ক আলী হায়দার মানিক প্রমুখ। 

এর আগে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গন থেকে র‌্যালী বের হয়ে ট্রাংক রোড প্রদক্ষিণ করে।

প্রফেসর তায়বুল হক বলেছেন, পরিস্থিতি এমন হয়েছে এ থেকে উত্তরণে সময় লাগবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। অন্যায়-দূর্নীতিকারিদের ধরার সময় এসেছে। এ জন্য আরো আরো শেখ হাসিনা লাগবে।

অ্যাডভোকেট আকরামুজ্জমান বলেছেন, সুজন সরকার কিংবা কোন রাজনৈতিক দলের প্রতিপক্ষ নয়। এনজিও এমনকি আর্থিক প্রতিষ্ঠানও নয়। সুজনের কাজ মানুষকে সচেতন করা। নাগরিক অধিকার রক্ষায় কাজ করা। এটি নৈতিক দায়িত্ব। এদেশ আমার, দেশকে সমৃদ্ধ করার চিন্তা আমাদের সবার রয়েছে। নাগরিকরা সোচ্চার হলে সরকার আইনের শাসন কায়েম করতে বাধ্য। তবে রাতারাতি সব সম্ভব নয়। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা সহ দেশে অনেক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ হয়েছে। কিন্তু এসবের বিচার থামিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার এসব সম্পন্ন করেছে। অপশাসন থেকে সুশাসন জন্ম নিবে।

প্রফেসর রফিক রহমান ভূঁইয়া বলেছেন, স্বাধীনতার পর অনেক সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সুজন কাজ করছে। আমরা সবাই সুজন হবো। সুজনের বাংলাদেশ চাই।

নুরুল করিম মজুমদার বলেছেন, সুশাসনের কথা বলে সুজন জন্ম হয়েছে। সুজন সহ সবাই সমাজ সচেতন কাজ করবে। সৃমদ্ধশালী রাষ্ট্র হবে এমন প্রত্যাশা করি।

প্রফেসর সন্তোষ রঞ্জন নাথ বলেছেন, বুয়েটের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে কীভাবে আবরারকে হত্যা করা হলো। সোনাগাজীতে অধ্যক্ষের শ্লীলতাহানীর ঘটনা ধামাচাপা দিতে নুসরাতকে হত্যা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ হয়েছে বলে নুসরাত হত্যার বিচার হয়েছে। আশা করছি আবরার হত্যার বিচারও হবে।


মন্তব্য লিখুন :