বঙ্গবন্ধুর স্পর্শের উত্তরাধিকার নোয়াখালী প্রেসক্লাব

১৯৭২ সালের ২৩ জুন নোয়াখালী প্রেসক্লাবের ভিত্তি প্রস্তর দিচ্ছেন গণপ্রজান্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। ছবি-সংগৃহীত।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলেক্ষে নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত সংকলনের জন্য এটি লিখা। নোয়াখালী প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কিছুটা সংশোধন করে এখানে প্রকাশ করা হলো। লিখেছেন রুদ্র মাসুদ...


গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি:

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,

এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’


সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের। 

ঐতিহাসিক সাত মার্চের ভাষণ নিয়ে নির্মলেন্দু গুণের “স্বাধীনতা'' এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো” কবিতার শেষ চারটি লাইন। কবিতাটি সেই কবে পড়েছি কিংবা আবৃত্তি শুনেছি মনে নেই। তবে; মনের মধ্যে গেঁথে আছে। গড়গড় করে কিভাবে বলে গেলেন বাঙালীর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। স্বাধীনতা উত্তরকালে বক্তৃতায় তিনি যেমন বাঙালীর অধিকার, স্বাধিকার এবং স্বাধীনতার কথা বলেছেন তেমনি স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দেশ গঠনে নির্দ্বিধায় বলে গেছেন জনঅংশগ্রহণ এবং দূর্ণীতির বিরুদ্ধে যতো কথা। প্রযুক্তির কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যগুলোও এখন ঘুরছে অনলাইনে। কতটা সাহসী হলে এমন বক্তব্য দিতে পারেন একজন মানুষ, বর্তমান সময়ে সেটি কল্পনারও অতীত।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী পালিত হয়েছে সারাদেশে। এই আয়োজনকে ঘিরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসন প্রকাশ করেছে সংকলন। প্রিয় অগ্রজ সাংবাদিক নাট্যজন মীরন মহিউদ্দিনের অনুরোধ- সেই সংকলনের জন্য এই লিখাটি লিখেছিলাম। ব্যাক্তিগত জীবনে আমি আওয়ামী লীগ কিংবা কোন রাজনৈতিক দলের ন্যূনতম সমর্থকও নই। উপরন্তু আওয়ামী লীগের ওপর ক্ষোভের বিষয়ও আছে, । তদুপরি বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ডের প্রায় দুই মাসপর জন্ম। যতটুকু জানা, সবই পাঠ করে কিংবা শ্রবন করে। 

এরমধ্যে একজন প্রয়াত বরেণ্য সাংবাদিকের সাথে বঙ্গবন্ধুর কথোপোকথনের একটা বিষয় দীর্ঘদিন ধরে গেঁথে আছে এবং “কারাগারের রোচনামচা” পাঠ সাংবাদিকতার সাথে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পারিস্কার হওয়া। সেখানে তাঁর লেখনীতেই ফুটে ওঠে শোষণে বঞ্চনার বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করতে সাংবাদিকতাকে কাজে লাগানোর বিষয়টি। পত্রিকায় নিজেদের সংবাদ প্রকাশের কৌশল, পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া, প্রকাশিত পত্রিকা সর্বাধিক স্থানে সরবরাহ, পত্রিকার আর্থিক যোগান নিশ্চয়তার জন্য তহবিল গঠন ও প্রকাশিত পত্রিকা বিক্রির উদ্যোগসহ কত্তো বিষয় স্থান পেয়েছে কারাগারের রোচনামচায় সেটি বলার অপেক্ষা রাখেনা। এখানে সাংবাদিকতা সম্পর্কে তাঁর নিবিড় পর্যবেক্ষণের বিষয়টিও সহজে অনুমেয়।

একজন সাংবাদিকের সাথে কতটুকু সম্পর্ক থাকলে অধিকার খাটাতে পারেন, যদি সেখানে মৃত্যু ঝুঁকি থাকে দুজনেরই ! সেটিও দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। লক্ষ লক্ষ জনতার উত্তাল সমাবেশে যেভাবে “আমার মানুষ, আমার ভাই” ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করেছেন আপনচিত্তে, তেমনি জেলখানা থেকে শুরু করে মৃত্যুর দুয়ারে থাকা আদালাতেও দেখিয়েছেন একই তেজ। মধ্যরাতের অশ্বারোহী খ্যাত বরেণ্য সাংবাদিক-লেখক প্রয়াত ফয়েজ আহমদের লেখা ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা : রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য” বইটি পাঠে এমনটি জেনেছি প্রায় দুই দশক আগে। ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে কুর্মিটোলা সেনানিবাসে চলছে “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য” মামলার (যেটি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামেই পরিচিত) বিচারকার্য । স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ের দাপুটে সংবাদপত্র ‘আজাদ’ থেকে চীফ রিপোর্টার ফয়েজ আহমেদকে পাঠানো হয় আদালতের কার্যক্রমের সংবাদ কভার করতে।

ফয়েজ আহমেদসহ ৬জন সাংবাদিক আদালত কক্ষে। বিচারকার্য শুরু হওয়ার পর প্রধান আসামী শেখ মুজিবর রহমান (তখনো বঙ্গবন্ধু উপাধি পাননি)সহ ৩৫ আসামীকে নিয়ে আসা হয়। তাঁরা বসলেন মামলার ক্রমানুসারে আসনে। বঙ্গবন্ধুর খুব কাছেই একটি আসনে বসা ফয়েজ আহমদ। বিচারকার্য শুরু হওয়ার পর মৃদুস্বরে বঙ্গবন্ধু ডাকলেন- ‘এই ফয়েজ’। কোন ভুল যেনো না হয়ে যায় সেজন্য সাংবাদিকরাও কিছুটা ভয়ে ছিলেন। জজ আর কৌশুলীদের দিকে ঘাড় ফেরাতে। এরমধ্যেই মধ্যে ফয়েজ আহমদের ডান উরুতে পাইপের ডগা দিয়ে কয়েকটি আঘাত করলেন বঙ্গবন্ধু। দায়িত্বপালনে অবিচল ফয়েজ আহমেদ বিচারকের দিকে তাকিয়েই  বললেন “মুজিব ভাই কথা বলা নিষিদ্ধ। পরে কথা হবে।” এবার তিনি একটু জোরেই ডাকলেন “এই ফয়েজ” !। মাথা নিচু করে ফয়েজ আহমেদ বললেন, “কথা বলা নিষিদ্ধ মুজিব ভাই”। সবাইকে অবাক করে উচ্চ কন্ঠে শেখ মুজিব বলে উঠেন- “ফয়েজ, বাংলাদেশে থাকতে হলে শেখ মুজিবের সঙ্গে কথা বলতে হবে”। বিচারকক্ষে উপস্থিত সবাই স্তম্ভিত। বিচারক, সব আইনজীবীসহ উপস্থিত সবাই শেখ মুজিবের দিকে তাকিয়ে এই কথা শুনলেন। সংবাদপত্রসহ নানা প্রকাশনায় এই ঘটনার বর্ণনা আছে। নানাজনের লেখায় যখন এবিষয়টি পড়েছি ততোই আর্শ্চয্যান্বিত হয়েছি। একজন মানুষ কতোটা প্রত্যয়ী হলে এমন কথা বলতে পারেন। পাকিস্তান সরকার সেই মামলাটির চুড়ান্ত বিচারকার্য সম্পাদন করতে পারলে ফলাফল কি হতো একজন বোধসম্পন্ন মানুষ সহজেই তা বুঝতে পারবেন।

মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের নানা বাঁক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে জানতে সেই সময়ের প্রথিতযশা সাংবাদিকদের লেখা, স্বাক্ষাৎকারগুলো পাঠ একজন সংবাদকর্মীকে ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিবে নিঃসন্দেহে।

জানার আগ্রহ থেকে চেষ্টা করেছি স্বাধীনতা সংগ্রামের উত্তাল দিনগুলোর নিয়ে সেই সময়ের বরেণ্য সাংবাদিকদের নানান পর্যবেক্ষণের ক্ষুদ্র কিছু অংশ পাঠ করতে। 

তবে; ব্যাক্তিগত জীবন আর পেশাগত জীবন দুটি ভিন্ন। দুই দশক ধরে নানাভাবে জড়িয়ে আছি সাংবাদিকতার সাথে। পেশাগত জীবনে ব্যাক্তির চাওয়া পাওয়ার চেয়ে বড় হয়ে উঠে দায়িত্বের বিষয়টি, ইতিবাচক অর্জনের বিষয়টিও। সেই দায়িত্বপালন করতে গিয়েই যুক্ততা সংগঠনের সাথে। সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে পথচলায় একসময় নোয়াখালী প্রেসক্লাবে অন্তুর্ভুক্তি ঘটে। যেটি বঙ্গবন্ধুর স্পর্শে আজঅবদি জেগে থাকা নোয়াখালীর একমাত্র স্থাপনা কিংবা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের সমর্থন এবং দায়িত্ব অর্পণের সুবাদে কিছুসময় সুযোগ হয়েছে এটির পরিচালনায় যুক্ত থাকার। এটি একাধারে গর্বের এবং ঝুঁকিরও। কারণ শত্রুতা এবং সমালোচনার একটি ভিতও তৈরী হয় দায়িত্বপালন করতে গিয়ে। ছিলো একধরণের এ্যাডভেঞ্চারও। কারণটা বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর স্পর্শ পাওয়া এজাতীয় প্রতিষ্ঠান নোয়াখালী কিংবা সারাদেশে দ্বিতীয়টি নেই।

দুই দশকেরও বেশী সময় আগে ১৯৯৯ সালের প্রথম দিকে যখন সাংবাদিকতার হাতেখড়ি, ঠিক সেই সময়ে কোন এক কর্মসূচীতে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে যাওয়া। সামনের ছোট্ট ছাদের নিচে নিচতলার দেয়ালে ছোট্ট একটা ভিত্তি ফলক। তাতে লেখা “নোয়াখালী প্রেসক্লাব ভবন, ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, তাং- ২৩শে জুন ১৯৭২ ইং”। দোতলার সভাকক্ষে ঝুলানো ছোটখাটো সাইজের বঙ্গবন্ধুর একটা প্রতিকৃতি। পরে খোঁজ নিয়ে জানলাম নোয়াখালীতে বঙ্গবন্ধুর আর কোন স্মৃতিচিহ্ন নেই। একজন সংবাদকর্মী হিসাবে সেই থেকে নোয়াখালী প্রেসক্লাব নিয়ে গর্বের অনুভূতি জায়গা করে নেয় মননে, যা এখনো বহমান। 

২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর নোয়াখালী প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হওয়ার পর গর্বের জায়গাটি দ্বায়িত্বশীলতায় পরিণত হয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন সারাদেশে পালিত হয় জাতীয় শিশু দিবস হিসাবে। সেই দিবসটি পালন এবং আগামি প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুকে পরিচয় করিয়ে দিতে আয়োজন করা হয় শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন  প্রতিযোগীতার। ছোট্ট শিশু কিশোররা রঙতুলিতে ফুটিয়ে তোলে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সাত মার্চের ভাষণ, প্রতিকৃতিসহ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নানান চিত্রকর্ম। শিশুকিশোর-অভিভাবকদের অভাবনীয় সাড়া সেদিনের আয়োজনকে স্বার্থক করে তুলেছিলো। অংশগ্রহণকারী শুধু একটা প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়নি, তাঁরা জেনে গেছে আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি বঙ্গবন্ধুর হাতে প্রতিষ্ঠিত। এটি নোয়াখালীর সাংবাদিকদের কাছেও গৌরবের। 

নোয়াখালী প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শহীদ উদ্দিন এস্কান্দার কচি এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ছায়েদুল হক চৌধুরী । তাঁদের সহযোদ্ধারা ছিলেন রফিক উদ্দিন আহম্মেদ, মাহফুজুল হক (মাদু চাচা নামে পরিচিত ছিলেন), কামাল উদ্দিন আহম্মেদ (ভাষা সৈনিক), এ কে এম যোবায়েরসহ অনেকে। সরকার পরিবর্তন হয়েছে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করা হয়নি।

৭২’র ২৩ জুন সেই মহেন্দ্রক্ষণের সহযাত্রীদের মধ্যে একমাত্র বেঁচে থাকা বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নোয়াখালী সংবাদদাতা হিসাবে কর্মরত অগ্রজ সাংবাদিক এ কে এম যোবায়ের তখন দৈনিক পূর্বদেশে কাজ করতেন। ৭২ বছর বয়সেও তিনি এখনে সক্রিয় রয়েছেন নিয়মিত সাংবাদিকতায়। অনুজদের জ্বালাতন করেন হয়তো বয়সের কারণে, কিন্তু মেধা-মননে এমনকি সংবাদের গুরুত্ব অনুধাবনে এখনো তরুন। যে বয়সে তিনি বঙ্গবন্ধুর পাশে দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন প্রিয় প্রতিষ্ঠানের ভিত রচনার ঐতিহাসিক মুহুর্ত। 

করোনাকালে মুঠোফোনে প্রিয় যোবায়ের ভাই’র সাথে কথা বলছিলাম, অপরপ্রান্ত থেকে তিনি বলে চলেছেন সমানতালে। মনে হয় যেনো- মাত্র ক’দিন আগের ঘটনা। কে জানতো একদিন নোয়াখালী প্রেসক্লাবই হবে নোয়াখালীতে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচিহ্ন বহনকারী একমাত্র প্রতিষ্ঠান। এমন মন্তব্যের সাথে আপসোস তাঁর। সেই দিনের ছবি সংরক্ষণ করতে পারেননি বলে। অথচ পরবর্তীতে তাঁর তোলা বঙ্গবন্ধুর একটা ছবি পূর্বদেশে লিড হয়েছে, কিন্তু  সেই ছবিটির নেগেটিভও সংরক্ষণ করতে পারেননি বলে দুঃখের অন্তনেই। স্মৃতি হাতড়ে জানালেন- আগেরদিন ২২ মার্চ শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য এবং সার্কিট হাউজে রাত্রি যাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আসবেন নোয়াখালী প্রেসক্লাবের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করতে এমন খবর জানা ছিলো। তখন এতোটা প্রটোকল ছিলোনা। নিজের মধ্যে কিছুটা বাড়তি উত্তেজনাতো ছিলোই, তাছাড়া বয়সের একটা ব্যাপারতো ছিলো । অবশ্য বঙ্গবন্ধু কচি ভাইসহ সবাইকে (সহিদ উদ্দিন এস্কান্দার কচি) সাথে নিয়ে ভিত গড়ে দিয়ে গেলেন নোয়াখালী প্রেসক্লবের। মনে হয় সেদিনের ঘটনা, অথচ ৪৮ বছর হতে চলেছে। এই প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচিয়ে রাখার মধ্যদিয়েই বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচিহ্নকে আগামি প্রজন্মকের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে পারবে সাংবাদিকরা। 

একজন সংবাদকর্মীর ব্যাক্তিগত পছন্দের উর্ধ্বে পেশাগত দায়িত্ব পালন যেমন সঠিক ঘটনা কিংবা ইতিহাসকে তুলে ধরতে সহায়ক হয় তেমনি নিজেও বিবেকর কাছে স্বচ্ছ থাকেন। নিজেদের পরিচয় এবং অর্জন নিয়ে গর্ব করার মতো মানসিকতা আগামি প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখবে সেইসব অগ্রজদের। স্বাধীনতা পূর্ববর্তীকাল থেকে যারা নোয়াখালীতে সাংবাদিকতার পথকে আমাদের জন্য সুগম করে গেছেন। স্বাধীনতার মহান স্থপতি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সেদিন যাদের হাতে নোয়াখালী প্রেসক্লাবকে তুলে দিয়ে গিয়েছিলেন নোয়াখালীতে কর্মরত সাংবাদিকরা তাঁদের উত্তরাধিকার। নোয়াখালী প্রেসক্লাবকে যেসকল সংবাদকর্মী নিজেদের প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন তাঁরা বঙ্গবন্ধুর স্পর্শে জন্মনেয়া এই প্রতিষ্ঠানেরও উত্তরাধিকার। আর নোয়াখালী প্রেসক্লাব জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্পর্শের উত্তরাধিকার।


লেখক- 

সাবেক সাধারণ সম্পাদক

নোয়াখালী প্রেসক্লাব।

মন্তব্য লিখুন :