নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের অভিষেক

পেশাধারিত্ব বজায় রাখার আহবান

যুক্তরাষ্টের নিউইয়র্কে কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নব নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির কর্মকর্তাদের বর্ণাঢ্য অভিষেক সম্পন্ন হয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটস্ এর বেলাজিনো পার্টি হলে অনুষ্ঠিত অভিষেকে কম্যুনিটির বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সকল শ্রেণী পেশার মানুষের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিলো চোখে পড়ার মতো ।

তিনপর্বে বিভক্ত এই অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিলো নব নির্বাচিত কমিটির পরিচিতি, সম্মাননা প্রদান, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। খবর বার্তা সংস্থা এনা’র।

প্রেসক্লাবের পুন:নির্বাচিত সভাপতি সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খানের সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক চ্যানেল টি টি’র পরিচালক শিবলী চৌধুরী কায়েস, সাংবাদিক শেখ সিরাজুল ইসলাম ও সাদিয়া খন্দকার। অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রবীন সাংবাদিক মনজুর আহমদ, নির্বাচন কমিশনের সদস্য সাংবাদিক আনোয়ার হোসাইন মঞ্জু, মঈনুদ্দীন নাসের, প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা নিনি ওয়াহেদ, সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ডা. চৌধুরী সরওয়ারুল হাসান, আবু তাহের,  কুইন্স ডেমক্র্যাটিক পার্টির নেতা ডিস্ট্রিক্ট এট লার্জ এর্টনী মঈন চৌধুরী, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের ফার্স্ট সেক্রেটারি শামীম হোসেন, বিশিষ্ট শিল্পপতি জহিরুল ইসলাম।

নব নিবাচিত কর্মকর্তাদের পরিচয় করিয়ে দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনজুর আহমদ। নব নির্বাচিত কমিটির সদস্যরা হলেন- সভাপতি ডা. ওয়াজেদ এ খান, সহ সভাপতি হাবিব রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর সরকার, অর্থ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক রশীদ আহমদ, প্রচার সম্পাদক সৈয়দ ইলিয়াস খসরু, কার্যকরি সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম, এবিএম সালাউদ্দিন আহমেদ, শিবলী চৌধুরী কায়েস (পদাধিকার বলে), হাসানুজ্জামান সাকি, মোহাম্মদ সোলায়মান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি হাবিব রহমান, স্মরণিকা কমিটির পক্ষে এবিএম সালেহ আহমেদ, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক এখন সময়ের সম্পাদক কাজী শামসুল হক, সাপ্তাহিক প্রবাসের সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদার, জাস্ট নিউজের সম্পাদক মুশফিক ফজল আনসারি, সাপ্তাহিক জনতারকন্ঠের সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন সেলিম, আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাগর, সাপ্তাহিক রানার পত্রিকার সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, মূলধারার রাজনীতিবিদ জয় চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী আব্দুর রব মিয়া, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, বিপার পক্ষে এ্যানি ফেরদৌস, জসীম উদ্দিন ভূইয়া, নাসির আলী খান পল, উৎসব ডট কমের ম্যানেজার সাঈদ এ আল আমিন, বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার প্রমুখ।

সাংবাদিক হাসানুজ্জাসান সাকির উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে ফজলে রশিদ সম্মাননা প্রদান করা হয় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি প্রবীন সাংবাদিক মাহবুবুর রহমানকে।

মনজুর আহমদ নতুন কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের চমৎকার দিক হলো এই সংগঠন প্রতিষ্ঠার পর থেকে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। আশা করি নতুন কমিটি এই সংগঠনকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

পুনরায় নির্বাচিত সভাপতি ডা. ওয়াজেদ এ খান বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে প্রবাস কম্যুনিটিতে যারা বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব দেন এবং কম্যুনিটির সকল শ্রেণী পেশা মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। আমাদের প্রবাসের বিভিন্ন মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা এসেছেন। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা সবাই পেশাধার সাংবাদিক। যারা এই প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছেন তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। বিশেষ করে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সাংবাদিক ফজলে রশিদকে। তিনি সাংবাদিকদের পেশাধারিত্ব বজায় রাখার আহবান জানান এবং কম্যুনিটির সহযোগিতা কামনা করেন।

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের আরো তিনটি সংগঠন রয়েছে। এই সংগঠনে যোগ দেবার কারণ হলো আমি ঢাকায় যাদের অধীনে কাজ করেছি তাদের অনেককেই পেয়েছি এই সংগঠনে তাই আমি এই সংগঠনে যোগ দিয়েছি। তাদের ¯েœহেই থাকতে চাই।

বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক শিবলী চৌধুরী কায়েস নব নির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, যারা এই ক্লাব প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের সকলের প্রচেষ্টায় এবং আপনাদের সহযোগিতায় আজকে এ পর্যায়ে পৌঁচেছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুব ও রোকসানা মির্জা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিবেশন করা হয় বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত।


মন্তব্য লিখুন :