ছাগলমারা খাল দখলমুক্ত ও পুন:খনন কাজে সেনবাহিনী

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে নোয়াখালী শহরের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে ছাগলমারা খাল দখলমুক্ত ও পুন:খনন কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহনীকে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দখলমুক্তকরণ কার্যক্রমের পরে বর্ষায় বৃষ্টির পানি নামতে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।

শুক্রবার সকাল থেকে শহরের জহুরুল হক মিয়ার গ্যারেজ এলাকা থেকে দক্ষিণ দিকে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনষ্ট্রাকশন ব্রিগেডের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দখলমুক্ত করা ও পুন:খনন কাজ করা হয়। এ সময় দীর্ঘদিন থেকে খালের দুই পাশ দখল করে গড়ে তোলা দোকানপাট, বাড়িঘর, পুল-কালভার্ট সহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয়। একই সময় খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে খনন কাজ করা হয়।

এ ব্যপারে নোয়াখালী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, মাইজদী থেকে সোনাপুর পর্যন্ত ছাগলমারা খালের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খনন কাজ এগিয়ে নেয়া হবে। এ ব্যপারে কাইকে কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। খালের ওপর বিভিন্ন সময় গড়ে ওঠা শক্ত কাঠামো অপসারণের কাজে সেনাবাহনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনষ্ট্রাকশন ব্রিগেড তাদের প্রযুক্তি ও জনবল দিয়ে সহযোগীতা করছে।

বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী নুরুন নবী জানান, জানান, ছাগলমারা খালে এক সময় জোয়ার-ভাটা হতো। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় মালামাল আনা- নেওয়া হতো। যাতায়াত করতো সাধারণ মানুষ। কিন্তু প্রশাসনের উদাসিনতায় ভূমি দস্যুদের দৌরাত্বে খালটি ছোট হতে হতে ক্রমশ নালায় পরিণত হয়। কোনো কোনো স্থানে খালের অস্তিত্বও বিলীন হয়ে যায়। এতে জেলা শহরের পানি নিষ্কাশনে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা তৈরী হয়। যার দরূন সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরের অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। শহরের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে বিএনডিসি খালটি পুন:খনন কাজ বাস্তবায়িত করছে।

শহরের দেবালয় এলাকার বাসিন্দা জহির উদ্দিন বলেন, ছাগলমারা খাল সংস্কারের ফলে তাঁদের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ এবার কমে আসবে বলে আশা করছেন। তিনি বলেন, এই খাল ছাড়াও শহরের অন্যান্য খালগুলোও দখলমুক্ত করা জরুরী। তাহলে শহরে কোনো ধরণের জলাবদ্ধতা থাকবে না।

জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস বলেন, নোয়াখালী পৌর শহরের জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হচ্ছে ছাগলমারা খাল দখল হওয়া। পৌর নাগরিকদের এ দু:খ লাগবে জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও বিএডিসির সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ খাল দখলমুক্ত ও পুন:খননের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। খালটি পুন:খননে কোনো প্রকার আপোষ করা হবে না বলেও জানান তিনি।

তিন বছর আগে নোয়াখালী পৌরসভার বর্তমান মেয়র সহিদ উল্যাহ খান সোহেলের প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিলো শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ছাগলমারা খালসহ বেদল হওয়া খাল সমূহ পুনরুদ্ধার ও পুন:খনন। যেটি বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় অনেককেই স্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য- গত ২৭ জুন নোয়াখালী জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে বিএডিসির মাধ্যমে শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার প্রধান প্রতিবদ্ধকতা ছাগলমারা খাল দখলমুক্তকরণ ও পুন:খনন কাজ শুরু হয়। ওদিন শহরের পৌর বাজার এলাকায় খাল পুন:খননের মধ্যদিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস। এ সময় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সামছুদ্দিন জেহান, নোয়াখালী পৌরসভার সচিব শ্যামল কুমার দত্ত ছাড়াও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন :