নারী স্বাস্থ্যবিষয়ক রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পেলেন সাংবাদিক জাহিদ

মেয়েদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে শ্রেষ্ঠ রিপোর্টিংয়ের জন্য ‘জার্নালিস্ট ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন দৈনিক সমকালের সহ-সম্পাদক নোয়াখালীর সুবর্ণচরের কৃতিসন্তান জাহিদুর রহমানসহ ১০ সাংবাদিক। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে ঋতু প্রকল্পের আওতায় ৯০ জন সাংবাদিক এ ফেলোশিপে অংশ নেন। এরমধ্যে শ্রেষ্ঠ রিপোর্টের জন্য রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ১০ সাংবাদিকের হাতে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও অর্থমূল্য তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।


পাঁচ ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- জাহিদুর রাহমান (সমকাল), মুসলিমা জাহান সেতু (প্রথম আলো), নাওয়াজ ফারহিন (ঢাকা ট্রিবিউন), মুহাম্মাদ গোলাম রাব্বানি (নিউ নেশান), মহাম্মদ বাহাউদ্দিন আল ইমরান (বাংলা ট্রিবিউন), মাসুদুল হক (ইউএনবি), আজিজুর রাহমান (যমুনা টিভি), এস এম আতিকুর রাহমান (এনটিভি), সাদিয়া ন্যানসি (রেডিও টুডে) ও এমডি নাহিয়ান নাসের (রেডিও নেক্সট)। এ সময় ফেলোশিপে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের মাঝেও সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়।


রেডওরেঞ্জ মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্ণব চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী একেএম মহিউল ইসলাম, নেদারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন জিওন স্টিগস, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ড. আবুল হোসেন ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আইইএম ইউনিটের পরিচালক আশরাফুন্নেসা।


১৯৮৬ সালের ২৮ নভেম্বর নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পূর্বচরবাটা গ্রামে জাহিদুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন। এটিএম লূৎফুর রহমান ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির ৭ সন্তানের মধ্যে তিনি পঞ্চম। তার বাবা ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা করেন। তিনি অবসর নিলেও এখনও এলাকায় শিক্ষাসহ সমাজ সেবামূলক নানা কাজে যুক্ত রয়েছেন। জাহিদ বেগমগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি, নোয়াখালী পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি ও স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।


জাহিদুর রহমান নোয়াখালীর স্থানীয় ‘লোকসংবাদ’ পত্রিকায় ২০০২ সালে ‘তৃণমূল সংবাদকর্মী’ হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন। কাজের ধারাবাহিকতায় ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালে ‘চলমান নোয়াখালী’তে স্টাফ রিপোর্টার এবং ২০০৬ থেকে ২০০৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দৈনিক ‘জাতীয় নিশানে’ বার্তা সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর জাহিদ ২০০৯ সালে ঢাকায় চলে যান। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত নিউজ এজেন্সি ‘ফোকাস বাংলা’য় সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ২০১০ সালে তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘শীর্ষ নিউজ ডটকমে’ একই পদে যোগদান করেন। এরপর তিনি ২০১১ সালের শেষের দিকে ‘দৈনিক স্টক বাংলাদেশ’, ‘স্বাধীন মত’ ও ‘বাংলামেইল’-এ সহ-সম্পাদক পদে কাজ করেন। সর্বশেষ তিনি ২০১৩ সালের মার্চে সহ-সম্পাদক পদে ‘সমকালে’ যোগদান করেন।


২০১৪ সালে ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড প্রিন্ট ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পান জাহিদ। এর আগে তিনি ২০০৯ সালে ফিচার প্রতিযোগিতায় ‘আলোকিত ফেনী’ পুরস্কার এবং ২০০৪ সালে ম্যাসলাইন মিডিয়া সেন্টার (এমএমসি) প্রবর্তিত ‘প্রাকৃতজন’ পুরস্কার লাভ করেন। চলতি বছরে কিশোর-কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন সমস্যা নিয়ে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে রেড অরেঞ্জ মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশনের ঋতু প্রকল্প থেকে গ্রহন করেন ফেলোশিপ এবং সংবাদের সামাজিক প্রভাবের কারণে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে ইয়ুথ স্কুল ফর সোশ্যাল এন্টারপ্রেনারস (ওয়াইএসএসই) প্রবর্তিত পুরস্কার লাভ করেন। খাদ্য অধিকার বিষয়ক রিপোর্টিংয়ের জন্য ২০১৮ সালে জাহিদকে ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে ‘খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-(খানি)’। চলতি বছরে তিনি একশন এইড বাংলাদেশে প্রবর্তিত 'ইয়ং জার্নালিস্ট ফেলোশিপ' পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৭ সালে রিয়্যাল এস্টেট বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদনের জন্য ‘আবাসন নিউজ’ বর্ষসেরা সাংবাদিকতা পুরস্কার অর্জন করেন। পাশাপাশি দৈনিক সমকালের দুইবার ‘সেরা রিপোর্টারে’র পুরস্কার পান তিনি।

মন্তব্য লিখুন :