আরটি-পিসিআর মেশিন হলেই করোনা পরীক্ষা হতে পারে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে

রয়েছে পর্যাপ্ত জনবল ও অবকাঠামো

মরণঘাতক করোনা ভাইরাসের সংক্রমনে নোয়াখালী ও পাশ^বর্তী লাখো লাখো মানুষ আতংকিত। জেলার কোথাও সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে নেই করোনা পরীক্ষার সুযোগ। এমন অবস্থায় আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে করোনা পরীক্ষার ল্যাব স্থাপনের দাবী সাধারণ মানুষের। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, শুধুমাত্র আরটি-পিসিআর মেশিন ও কীটসহ কিছু ল্যাব সামগ্রী পেলেই তাদের দক্ষ জনবল দিয়ে কোভিড-১৯ পরীক্ষা শুরু করতে প্রস্তুত তারা। বিষয়টি দ্রুত উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থার আশ্বাস জেলা প্রশাসকের। 

বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে- নোয়াখালীর প্রায় আড়াই লাখ মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক তখনই অনেক প্রবাসীই পাড়ি জমিয়েছেন নিজ দেশে। সরকারি হিসেবে জানুয়ারি থেকে মার্চ এ তিন মাসে প্রায় ১৮হাজার এবং শুধু মার্চ মাসেই প্রায় ৮ হাজারেরও বেশি প্রবাসী নোয়াখালীতে প্রবেশ করে। এদের বেশিরভাগই ইতালিসহ মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী। এমন অবস্থায় আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছে জেলার মানুষ। সরকারিভাবে কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিলেও অনেকে জনসম্মুখে এসে যত্রতত্র বিচরণ করেছে। ফলে দিন যত যাচ্ছে আতংক ততই বাড়ছে। 

আর এ মরনঘাতি ভাইরাস পরীক্ষার সুযোগ নেই বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার কোথাও। এমন অবস্থায় জেলার বেগমগঞ্জে অবস্থিত আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে দ্রুত করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা করার দাবী বিশিষ্ট ব্যক্তি, জনপ্রতিনধি ও সর্বস্তরের মানুষের। এখানে ল্যাব স্থাপন হলে নোয়াখালী ছাড়াও লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও কুমিল্লাসহ অন্তত আরো ৫টি জেলার মানুষ ভাইরাস পরীক্ষা করাতে পারবে। দ্রুত ল্যাব স্থাপনে প্রয়োজনীয় মেশিনপত্র এবং কীটসহ অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন তাঁরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে রয়েছেন ৩ জন সহকারী অধ্যাপক, ২ জন প্রভাষক এবং ভাইরোলজিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২ জন বিএসসি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। তাছাড়া অন্যান্য বিভাগে রয়েছে আরো ৪ ল্যাব টেকনোলজিস্ট। এছাড়া রয়েছে অত্যাধুনিক মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব ও অবকাঠামোগত সুবিধা, যা দেশের অনেক মেডিকেল কলেজেই নেই। করোনা ভাইরাস টেস্ট করার জন্য ল্যাবে যেই যেই জিনিস থাকার প্রয়োজন তার বেশিরভাগই আছে এখানে। শুধুমাত্র আরটি-পিসিআর মেশিন ও কীটসহ কিছু ল্যাব সামগ্রী পেলেই করোনা পরীক্ষা করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত কলেজ কর্তৃপক্ষ।


কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রভাষক ডা. ফারজাহানা আক্তার জানান- এখানে ৪জন মাইেক্রোবায়েলজিস্ট রয়েছেন। আছেন দুইজন ল্যাব টেকনোলজিস্ট। এছাড়া উপজেলা উপজেলা পর্যায়েও টেকনোলজিস্টদের পিসিআর প্রশিক্ষণ রয়েছে তাঁদেরকেও এখানে নিয়ে আসা যাবে পূর্ণাঙ্গ ল্যাব স্থাপিত হলে। এখানে অত্যাধুনিক অনেক ইক্যুইপমেন্ট রয়েছে বর্তমানে আরটি-পিসিআর মেশিন ও কীটসহ কিছু ল্যাব সামগ্রী স্থাপন করা গেলে দ্রুত করোনা রোগী সনাক্ত করা সম্ভব হবে। সবচে বড় কথা হচ্ছে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের মাঝখানে বিস্তীর্ণ এলাকায় এধরণের ল্যাব নেই। এই কলেজে অবকাঠামোগত সুবিধা রয়েছে, তাই দ্রুত ল্যাব স্থাপন সম্ভবন।


স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) নোয়াখালী’র সভাপতি জেলা ডা. ফজলে এলাহী খান বলেন- আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ ফেনী এবং লক্ষ্মীপুর জেলার মধ্যবর্তী। এছাড়া কুমিল্লার দক্ষিাঞ্চল এবং চাঁদপুরের সাথে যোগাযোগ রয়েছে। প্রবাসী অধ্যুষিত হওয়ায় এই অঞ্চলে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বেশী। ইতেমধ্যে দেশের ১৭টি স্থানে করোনা সনাক্তকরণের জন্য ল্যাব  স্থাপিত হয়েছে। এই মেডিকেল কলেজে দ্রুত ল্যাব স্থাপনে আরটি-পিসিআর মেশিন ও কীটসহ প্রয়োজনী ল্যাব সামগ্রী সরবরাহে প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি প্রতি আবেদন জানান।

তিনি বলেন- করোনা সন্দেহে সাধারণ অনেক রোগী এখন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেককে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষার পর দেখা যাবে রোগী করোনায় সংক্রমিত নয়। তাই স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা বজায় রাখতে দ্রুত ল্যাবটি স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মাহফুজুর রহমান বাবুল জানান- কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ল্যাবটি আধুনিক এবং পরিপূর্ণ জনবল রয়েছে। বর্তমান সময়ে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় করোনা সনাক্ত করণে পরীক্ষার জন্য কিছু মেশিনপত্র এবং কীটের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাহলেই ল্যাবটি পূর্ণাঙ্গতা পাবে এবং এই অঞ্চলের রোগীদের সেবা প্রদান করা হবে। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ল্যাবে করোনা সনাক্তকরণের পরীক্ষা চালু করেছে দ্রুত এখানেও এটি চালুর দাবী জানান তিনি। 

উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস বলেন, শুধুমাত্র মার্চ মাসেই ৮ হাজারেরও বেশি প্রবাসী নোয়াখালীতে প্রবেশ করেছে। এছাড়া সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ বাড়িতে এসেছে। এতে করে পুরো জেলাতেই ঝুঁকি তৈরী হয়েছে। আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ল্যাবটি অত্যান্ত আধুনিক। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেবা দিতে হলে ল্যাবের পূর্ণাঙ্গতা প্রয়োজন। পূর্ণাঙ্গ ল্যাব স্থাপনে আরটি-পিসিআর মেশিন ও কীটসহ কিছু ল্যাব সামগ্রী সরবরাহের জন্য সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর নিজেরও দাবি। একইসাথে তিনি সাধারণ নাগরিকদেরকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঘরে থাকার আহবান জানান।

মন্তব্য লিখুন :