মাইজদীতে ভুয়া ডাক্তারের জেল, প্রাইম হাসপাতালের জরিমানা

জেলার প্রধান চিকিৎসা বাণিজ্যে কেন্দ্র জেলা শহর মাইজদীতে এক ভুয়া ডাক্তারের জেল ও প্রাইম হাসপাতালকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। বাসায় চেম্বার খুলে চিকিৎসক হিসাবে ভুয়া ডাক্তার নাম-পদবি ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে এম নাজমুল হুদা (৩৯) নামের এক ভুয়া চিকিৎসককে ৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে জেলা শহরের আলোচিত প্রাইম হাসপাতালকে দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রোকনুজ্জামান খান। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মোমিনুর রহমান, ড্রাগ সুপার মাসুদ হাসান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক দেবানন্দ সিনহা এবং সুধারাম মডেল থানা পুলিশ।


ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এস এম নাজমুল হুদাকে নিরাময় হাসপাতালের সামনে থেকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী  পার্শ্ববর্তী আকসা গার্ডেন বাসার তিন তলায় অবস্থিত চেম্বারে অভিযান চালিয়ে তার নামের চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র ও চিকিৎসা প্রদানের যন্ত্রপাতি পাওয়া যায়। এসময় এস এম নাজমুল হুদা তার নামের ব্যবস্থাপত্রে ডাক্তার নাম-নাম-পদবী-ডিগ্রী ইত্যাদি ভূয়া বলে অপরাধ স্বীকার করেন। পরবর্তীতে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ২৮ ধারায় ৮মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে তাকে নোয়াখালী জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।


এদিকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে প্রাইম হাসপাতালের শয্যা অনুয়ায়ী যেখানে ১৫জন ডিউটি ডাক্তার থাকর কথলেও মাত্র তিন জন ডিউটি ডাক্তার পাওয়া যায়। এছাড়া অপরিচ্ছন্ন অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসীতে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ, ফামের্সীর ফ্রিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের সঠিক মাত্রা না থাকা, হাসপাতাল ক্যান্টিনের অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্ন পাওয়া যায়। পরবর্তীতে মেডিক্যাল প্রেকটিস এবং বেসরকারী ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরী (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২, ঔষধ আইন ১৯৪০, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর বিভিন্ন ধারায় ২লক্ষ ৫হাজার টাকা জরিমানা দন্ড আরোপ ও আদায় করা হয়।

মন্তব্য লিখুন :