বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো না স্কুল শিক্ষিকা তাসলিমার

একসাপ্তাহ পরই বিয়ে। সব আয়োজন ঠিকঠাক মতো চলছিলো। ২৭ ফেব্রুায়ারি বৃহস্পতিবার বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিলো অল্প বয়সে পিতা হারানো স্কুল শিক্ষিকা তাসলিমা বেগমের (২৫)। বাবা না থাকায় বাড়ীতে বিয়ের কাজ-দায়দায়িত্ব নিজেকেই করতে হবে। তাই বিদ্যালয়ের সহকর্মীদের বিয়ের দাওয়াত দিতে কার্ড নিয়ে সকালে মামার সাথে মোটরসাইকেলে ছড়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথেই ঘটে দুর্ঘটনা। এতে প্রাণ হারান তাসলিমা। বিয়ের পিঁড়িতে বসা হয়নি, লাল বেনারসির পরবর্তী তাঁকে পরানো হয় সাদা কাফন।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চৌরাস্তার কিল্লা এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে নিহত শিক্ষিকা তাসলিমা বেগম উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের কেরামতপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের মেয়ে। তিনি মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পূর্ব চরলক্ষ্মী আশ্রয়ন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহাকারি শিক্ষক ছিলেন।

নিহতের মামা দিদারুল আলম জানান, প্রতিদিন সকালে তার এক মামার সাথে মোটরসাইকেলযোগে বিদ্যালয়ে যেতো তাসলিমা। পারিবারিকভাবে আগামী বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুর চৌরাস্তা এলাকার পাশ^বর্তী তার বিয়ে ঠিক করা হয়। বিদ্যালয়ে গিয়ে সবাইকে দাওয়াত দিয়ে ছুঁটিতে আসার কথা ছিল তার। সকালে ওই মামার সাথে মোটরসাইকেলযোগে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল তাসলিমা। পথে চৌরাস্তার কিল্লা এলাকায় হঠাৎ করে মোটরসাইকেলের সামনে একটি কুকুর এসে পড়ে, এসময় কুকুরের সাথে মোটরসাইকেলটি ধাক্কা লেগে দূর্ঘটনা ঘটে। এসময় মোটরসাইকেল থেকে সড়কের উপর পড়ে মাথায় আঘাত পায় তাসলিমা। পরে তাকে উদ্ধার করে চৌরাস্তা বাজারের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরো জানান, তাসলিমার বিয়ের আয়োজন নিয়ে তার বাড়ীতে অনেক দিন পর আনন্দ-উল্লাস চলছিল, কিন্তু এ দূর্ঘটনায় আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মুহুর্ত্বের মধ্যে তার পরিবার ও বাড়ীতে নেমে এসেছে শোকের মাতম। শনিবার বাদ আছর জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহেদ উদ্দিন সড়ক দূর্ঘটনায় স্কুল শিক্ষিকা তাসলিমা বেগম নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য লিখুন :