সেনবাগে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, পদদলিত হয়ে প্রাণ গেল শিশুর

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় পায়ের নিছে চাপা পড়ে আরিফুল ইসলাম (৮) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেল ৫টার দিকে হরিণকাটা পোলের গোড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরিফুল ইসলাম ওই গ্রামের আহসান উল্যার ছেলে। সে নতুনপুরি বর্ণমালা একাডেমির নার্সারি শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে সেনবাগ পৌর শহর থেকে কাজিরহাট-সেনবাগ সড়ক দিয়ে ইউরিয়া সার ভর্তি একটি ট্রাক ডুমুরিয়া ইউনিয়নে যাচ্ছিলো। পথে ট্রাকটি হরিণকাটা পুলের কাছে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্থানীয় সেলিমের চা দোকানের ভিতরে ট্রাক নিয়ে ঢুকে পড়ে। এতে চা দোকানদার সেলিম আহত হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় ডুমুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আজাদ ও তার লোকজন ঘটনাস্থল এসে ট্রাকের সার লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন তাতে বাধা দেয়। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের সাথে আজাদ মেম্বারের লোকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থলে আরিফুল ইসলাম পদদলিত হয়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা আহত আরিফকে দ্রুত উদ্ধার করে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

নিহত শিশুর পিতা আহসান উল্যা তার ছেলে হত্যার বিচার দাবী করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবী করেছেন। 

এ বিষয়ে আজাদ মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সার ভর্তি ট্রাক দূর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল আসেন। সার লুটের ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবী তার। 

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাতেন বলেন, আজাদ মেম্বার ও তার লোকজন দূর্ঘটনা কবলিত ট্রাকের সার লুট করতে আসলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। এ সময় আজাদ মেম্বারের লোকজনের সাথে স্থানীয় এলাকাবাসীর সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় পায়ের নিছে পৃষ্ট হয়ে আরিফুল ইসলাম নিহত হয়। 

তিনি আরও বলেন, শিশুটির লাশ রবিবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হবে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 


মন্তব্য লিখুন :