নোয়াখালীর আঞ্চলিক গানের জনক অধ্যাপক মো. হাসেম আর নেই

"আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী রয়াল ডিস্টিক ভাই"সহ অজস্র- জনপ্রিয় গানের গীতিকার সুরকার নোয়াখালীর আঞ্চলিক গানের জনক শিল্পী অধ্যাপক মো. হাসেম আর নেই। তিনি সোমবার দুপুর ২:৩০ মিনিটে আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইজি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৪ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, তিন কন্যাসহ আত্বীয় স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী, ভক্ত ও শ্রোতা রেখে গেছেন।

সোমবার দিবাগত রাত দেড়টায় নামাজে জানাজা শেষে তাঁকে জেলা শহর মাইজদীর কোট মসজিদ প্রাঙ্গনে (জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দিঘীর পাড়ে) দাফন করা হয়। জানাজায় প্রয়াত অধ্যাপক হাসেমের ভাই অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, জামাতা কবিরহাট পৌরসভার মেয়র জহিরুল হক রায়হান, ছেলে সাংবাদিক মুস্তফা মনওয়ার সুজন, সাবেক পিপি এডভোকেট কাজী মানছুরুল হক খসরু, জেলা বারের সাবেক সেক্রেটারি এডভোকেট আজিজুল হক বকশী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সেক্রেটারি এডভোকেট এমদাদ হোসেন কৈশোর, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য রহমত উল্যা ভূঁঞাসহ বিপুল সংখ্যক মুসুল্লী উপস্থিত ছিলেন। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক মো. হাসেমের ব্রেইন স্ট্রোক হয়েছিলো এবং তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রফেসর ডা. রশিদুল হাসানের তত্বাবধানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

অধ্যাপক মো.হাসেম একাধারে নোয়াখালীর আঞ্চলিক গানের গীতিকার, সুরকার, শিল্পী ও গবেষক, তিনি সংগীত মহাবিদ্যালয়ের লোকসংগীতের শিক্ষক ছিলেন। এরপর তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত হয়ে নোয়াখালী সরকারি কলেজ, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ, কবিরহাট সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন কলেজে বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন। অধ্যাপক হাসেম নোয়াখালীর নিজস্ব সংস্কৃতি, লোকজ বিভিন্ন আচার, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অজস্র গান রচনা করে গেছেন।


মন্তব্য লিখুন :