সুবর্ণচরে ব্যাংকারের বাড়িতে শিক্ষক নেতার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলা, ভাংচুর

হামলার ভিডিও ভাইরাল, শাস্তির দাবি

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সন্ত্রাসী কায়দায় কামাল হোসেন নামে এক ব্যাংকারের বাড়িতে সন্ত্রাসী কায়দায় লাঠিসোটা নিয়ে হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছেন মো. সামছুজ্জামান নিজাম নামের একজন শিক্ষক নেতা। শুক্রবার বিকালে উপজেলার চরবাটায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক নেতা স্থানীয় চরবাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সুবর্ণচর শাখার সভাপতি। শিক্ষক নেতার হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ছে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা শিক্ষক নেতাকে বহিস্কার ও শাস্তির দাবি তোলেন। 

এদিকে হামলার শিকার হওয়া ব্যাংকারের পরিবার প্রতিকার চেয়ে চরজব্বার থানায় মামলা দায়েরর পর হামলাকারী শিক্ষক নেতা পাল্টা মামলা দায়ের করনে। শিক্ষক নেতার খুঁটির জোরের বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছেন মামলা দায়েরের প্রভাবের মধ্যদিয়ে। এনিয়েও এলাকায় ক্ষোভের অন্ত নেই। যদিও চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশ্বস্ত করেছেন তদন্তপূর্বক আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের।

ভূক্তভোগি কামাল হোসেন ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ব্যাংকার কামাল উদ্দিনের চার শতক জায়গা ব্যবহার করে আসছেন পার্শ্ববর্তী জামাল উদ্দিনের পরিবার। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে ঝগড়া লেগে ছিল। শুক্রবার বিকেলে ওই জায়গা নিয়ে পুনরায় জামালের স্ত্রীর সঙ্গে কামালে স্ত্রীর কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জামালের স্ত্রী তার আত্মীয় পরিচয়দানকারী স্থানীয় চরবাটা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সামছুজ্জামান নিজামকে বিষয়টি জানায়। এ সময় তিনি ব্যাংকারের স্ত্রীকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় ফোনে গালিগালাজ করে।

পরবর্তীতে গালিগালাজের কারণ জানতে ব্যাংকারের স্ত্রী ও পুত্র স্থানীয় কাজল মার্কেট এলাকায় শিক্ষক নেতার সাথে দেখা করেন। এসময় শিক্ষক নেতা উল্টো মা-ছেলেকে মারধর করেন। এসময় ব্যাংকারের স্ত্রী-পুত্র প্রতিহত করার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হন। ব্যাংকারের ছেলে ও স্ত্রী মারধরের শিকার হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ পর পুনরায় প্রধান শিক্ষক নিজাম আরও লোকজনকে নিয়ে তাদের (ব্যাংকারের) বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় নিজাম নিজে লাঠি হাতে ভাঙচুর এবং ব্যাংকারের স্ত্রী ও ছেলেকে মারধর করেন এবং দরজা বন্ধ করে ঘরে থাকা ব্যাংকারকে বেরিয়ে আসতে এবং হত্যার হুমকি দেন নিজাম। 

স্থানীয় এক যুবক হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ভিডিও করে তার ফেসবুক পেইজে পোস্ট করলে তা মুহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, শিক্ষক নিজাম লাঠি হাতে জানালার কাচ ভাঙচুর করছেন। তিনি অকথ্য ভাষায় চিৎকার করে গালিগালাজ করেন এবং হুমকি দেন। এ সময় পুরো বাড়িতে আতংক দেখা দেয়। শিশুরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে কান্না করতে থাকে।   

ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে ভিডিও পোস্টকারী ও কমেন্টকারীরা ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করেন। কমেন্টে তাঁরা লিখেন, একজন শিক্ষক যদি সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালায় তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে। শেখ আহমেদ নামে একজন বলেন, কেউ যদি অন্যায় করে, তাহলে সমাধান আছে। এভাবে মাস্তানের মত জঘন্যতম কাজ করা ঠিক হয়নি। 

সপ্নীল ফারুক নামে একজন বলেন, শিক্ষক নামের কলঙ্ক। সমস্যা হলে সমাধান আছে, কিন্তু কারো বাড়িতে হামলা করার নিয়ম নেই। মনির আহমেদ নামে একজন বলেন, শিক্ষক হচ্ছে সমাজের দর্পন, শিক্ষক হচ্ছে মানুষ গড়ার কারিগর। সেই শিক্ষক যদি হাতে দেশীয় অস্ত্র ও সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে অন্যের বসত বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালায়, তা শুধু ওই শিক্ষকই নয় পুরো শিক্ষক সমাজকে কলঙ্কিত করে। তাই এরকম সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোককে সব সাংগঠনিক সকল পদ থেকে বহিষ্কার করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা জরুরি।

এ ঘটনার পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, হামলার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর একাধিক লোকের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। কেউ কেউ নিজের আগ্রহে আমাকে নক করেছেন। শিক্ষক নিজামের ব্যক্তিচরিত্র নিয়ে অবিশ্বাস্য অভিযোগ শুনলাম। তার শিকার নারীরাও অভিযোগ করেছেন। শিক্ষক যদি হন, নারী লোলুপ আর কী বলার থাকে। তার নারী কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পান না কেউ। 

এ ঘটনায় হামলার শিকার ওই ব্যাংকার থানায় অভিযোগ করেছেন। এরপর অভিযুক্ত শিক্ষক হামলা করে উল্টো হামলার শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চরজব্বার থানার ওসি সাহেদ উদ্দিন। তিনি বলেন, উভয় পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যাংকার কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা করলে একজন উপ-পরিদর্শক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তাদের রোববার ভূঞারহাট ফাঁড়িতে যেতে বলেন। তবে তিনি থানায় যেতে রাজি হননি। তিনি বলেন, মামলা দিয়েছে, মামলার গতিতে চলবে। সেখানে সমাধানের কিছু নেই।

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক মো. সামচ্ছুজ্জামান নিজাম বলেন, স্থানীয় এক নারীর পারিবারিক বিরোধ তিনিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সমাধান করে দেন। তার জের ধরে ব্যাংকারের স্ত্রী তার গায়ে জুতা ছুড়ে মারেন। এমন ঘটনায় স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে কামাল হোসেনের বাড়িতে যান। তিনিও নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে লাঠি হাতে নিয়েছেন মাত্র। তবে কোনো ভাঙচুর করেননি। 

অথচ; ভিডিওটিতে দেখা যায় শিক্ষক নিজাম নিজেই ব্যাংকারের ঘরে হামলা চলান।


মন্তব্য লিখুন :