যুবলীগ নেতা মঞ্জুর অফিসে গুলির রেশ না কাটতেই

মাইজদীতে জনতার হাতে অস্ত্রসহ দুইজন আটক

নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় তিনটি দেশীয় তৈরি এলজিসহ দুইজনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) সোপর্দ করেছে স্থানীয় লোকজন। বুধবার দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে স্থানীয় রশিদ ড্রাইভার বাড়ি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। 

তিনদিন পূর্বে জেলা শহরের সংরক্ষিত এলাকা আদালত পাড়ায় রেডক্রিসেন্ট মার্কেটে যুবলীগ নেতা মঞ্জুর অফিসে গুলি করে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা। অফিসে না থাকায় মঞ্জু প্রাণে বেঁচে গেলেও এনিয়ে পুলিশের ভূমিকায় শহর জুড়ে নানান সমালোচনা চলছে।  এরই মধ্যে জনতার হাতে ধরা পড়লো দুই অস্ত্রধারী।

আটককৃতরা হচ্ছে- সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী হায়দার বকশীর ছেলে ইসমাইল বকশী (২৬) ও একই এলাকার মাইন উদ্দিন (৩০)। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে দফায় দফায় ওই এলাকায় কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মহড়া দিচ্ছিল তারা। দুপুর দেড়টার দিকে দুই যুবক একটি মোটরসাইকেল নিয়ে স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী আবদুল্যাহ্ আল মামুনের বাড়ি খোঁজ করে। পরে স্থানীয়দের বিষয়টি সন্দ্বেহ হলে মোটরসাইকেল আরোহি ওই দুই যুবককে আটক করে। পরে তাদের কাছে থাকা একটি হাত ব্যাগ কেড়ে নেয় স্থানীয় লোকজন। ওই হাত ব্যাগ খুলে দেখা যায় ব্যাগে তিনটি দেশীয় তৈরি এলজি। 

ছাত্রলীগ কর্মী মামুন জানান, মূলত এই দুইজন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এখানে এসেছে। পরে স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে তাকে (মামুন) ডেকে এনে ওই দুইজনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশে সোপর্দ করে। তার ভাষ্য মতে, গত শনিবার রাতে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল আলম মঞ্জুর অফিসেও গুলি করার সঙ্গে জড়িত রয়েছে তারা। 

যুবলীগ নেতা নাজমুল আলম মঞ্জুর অফিসে গুলির ঘটনার রেশ না কাটতেই লক্ষ্মীনারায়নপুরে অস্ত্রধারীদের মহড়ায় এলাকাবাসীর মাছে আতংক ছড়িয়ে পড়ছে। কারণ মঞ্জুর ওই অফিসে তাঁর ব্যাবসায়ীক পার্টনার ও সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নুর আলম সিদ্দিকী রাজুও বসতেন। সংশ্লিষ্টদের মতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শায়েস্ত করতেই ওই অফিসে গুলির ঘটনা ঘটেছে প্রভাবশালীদের ইন্ধনেই। মঞ্জুর অফিসে গুলির পরপর ফেসবুকে একাধিক রাজনৈতিক নেতার পোস্টে তেমনটিই দেখা গিয়েছিলো। সেসব পোস্টে গুলির ঘটনায় সরাসরি একটি পক্ষকে দায়ী করা হয়েছিলো। সেই পোস্টগুলো পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট আইডি থেকে মুছে ফেলা হয়।

অস্ত্রসহ দুজিনকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান শিকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, অস্ত্রসহ আটককৃত দুইজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলা দায়ের শেষে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তবে যুবলীগ নেতা মঞ্জুর অফিসের গুলি করার সঙ্গে তারা জড়িত আছে কিনা তারা নিশ্চিত নয় তিনি। 

মন্তব্য লিখুন :