স্বাস্থ্যখাতের অভিযানের ঢেউ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালেও

সাত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি সরবরাহে অনিয়মের তদন্তে দুদক

দেশব্যাপী স্বাস্থ্যখাতে চলমান অনিয়ম-দূর্ণীতি বিরোধে অভিযানের ঢেউ লেগেছে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালেও। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালের জন্য সাত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনাকাটা এবং ব্যবহার নিয়ে অনিয়মের তদন্তে নেমেছে দুদকের অনুসন্ধান টিম। দামি যন্ত্রপাতি ব্যবহার ছাড়াই ফেলে রাখা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির কোন ঠিকঠিকানা নেই। অথচ বিল উত্তোলন করে হজম করা হয়েছে। 

গত ২২ জুলাই বুধবার নোয়াখালী দুদকের সহকারী পরিচালক সুবেল আহমেদ’র নেতৃত্বে গঠিত টিম অনুসন্ধান শুরু করেছেন । আর প্রথম দিন তদন্তে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়েছে। প্রথম দিনের অনুসন্ধানে দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। 

অথচ; কে না জানে নোয়াখালীতে প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করেই চলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি সরবরাহের কাজ। আর নোয়াখালী স্বাস্থ্যবিভাগ নিজেই দূর্ণীতিতে নিমজ্জিত। করোনাকালীন সময়ে নানা ঘটনার জন্ম দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত সিভিল সার্জনকে সরানো হয়।

নোয়াখালীর জেলা দুদক সমন্বিত কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুদকের অনুসন্ধান টিমের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার ও যন্ত্রপাতি বিতরণ বিভাগের-সিএমএইচডি’র উপ-পরিচালক ডা. নিজামুদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল-৪ এর সহকারি পরিচালক ডা. আহসানুল হক, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের রেডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শহিদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (নিমিউ অ্যান্ড টিসি) এর সহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রনিকস) নাশিদ রহমান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিপিএম (ডিরেক্ট প্রকিউরম্যান্ট মেথড) হাসপাতাল ডা. সুরজিত দত্ত।

জেলা দুদক কার্যালয় সূত্র জানায়, ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে বিভিন্ন সময়ে এক্টউইল টেকনোলজি (বিডি) লিমিটেড কর্তৃক সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতি (সিএমএসডি কর্তৃক কার্যাদেশ নং সিএমএসডি /প্রকিউর/৫৬ এইচপিএন এসডিপি/জি ১৫২৩ (আইসিবি)২০১৫৮-২০১৬/ডি /৫৫) এবং মেসার্স বেংগল সাইন্টিফিক এন্ড সার্জিকাল কোং কর্তৃক সরবরাহকৃত সি আর এক্সরে মেশিনসহ সরঞ্জামাদি ও যন্ত্রপাতির মূল্য যাচাই সম্পর্কে দুদক ও  স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত টিম অনুসন্ধান শুরু করেছে।

তদন্তকারী দল বুধবার  হাসপাতালে এসে দেখতে পায় পায় ৩৫লক্ষ টাকা মূল্যের একটি সি আর এক্সরে মেশিন -৫০০ অকেজো অবস্থায় পড়ে আচে। সরবরাহ নেওয়ার পর থেকে প্রায় ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও একদিনও ব্যবহার হয়নি। অথচ বিল উত্তোলন করে নেয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে সরবরাহ নেয়া অটোমেশন, পোর্টাবেল ৪-ডি আল্ট্রাসনোগ্রাফি, আইসিইউ বেড, ডেন্টাল চেয়ার সহ যন্ত্রপাতি সরবরাহ নেয়া পণ্যের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সঠিক পাওয়া যায়নি। যার মূল্য প্রাপ্ত অভিযোগে ৭ কোটি টাকা উল্ল্যেখ করেছেন।

নোয়াখালী দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের জানান, অনুসন্ধান শুরু হয়েছে মাত্র।  শীঘ্রই অনিয়ম ও সরকারি টাকা আত্মসাতের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দায় দায়িত্ব নির্ধারণপুর্বক মামলা রুজুর সুপারিশপুর্বক কমিশনে প্রেরন করা হবে।

মন্তব্য লিখুন :