নোয়াখালী পৌরসভায় অভাবনীয় যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন

দত্তের হাট গরু বাজার থেকে পূর্ব দিকে অশ্বদিয়া সেতু পর্যন্ত বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী সড়ক। প্রায় দেড় কিলোমিটারের এ সড়কটি জেলা সদরের সাথে কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। যা বিগত ২০বছর পর্যন্ত খানাখন্দে ভরা ছিল। যানবাহন তো দুরের কথা এ সড়ক দিয়ে বাইসাইকেল কিংবা হেঁটে যাতায়াত করাও ছিল মুসকিল, অন্তঃছিল না জনদুর্ভোগের। জনগনের দুর্ভোগ লাগবের জন্য চলতি অর্থ বছরে সড়কটি পুনঃনির্মাণ করেছে নোয়াখালী পৌরসভা।

শুধু এ সড়কটি নয়, দুর্ভোগের অপর নাম ছিল শহরের হাসপাতাল সড়কটি। জনশ্রুতি আছে এ সড়কটিতে যাতায়তে সুস্থ্য মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়তো। দু’পাশে অপর্যাপ্ত ড্রেণ, ছিল ময়লা আবর্জনার বাগাড়। সব মিলিয়ে সড়কটি ছিল যাতায়াত অনুপযোগী। জেলার সরকারি পর্যায়ের সর্বোচ্চ হাসপাতাল ২৫০শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের বাহিরেও অর্ধশতাধিক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক রয়েছে এ সড়কের দুই পাশে। প্রতিদিন হাজারও মানুষের যাতায়াত সড়কটিতে। বর্তমান পৌর পরিষদ দায়িত্ব নেয়ার পর সড়কটি প্রশস্তকরণ ও দুই পাশে পর্যাপ্ত ড্রেণেজ ব্যবস্থা করায় দুর্ভোগ লাগব হয় রোগী, স্বজন ও পথচারিদের। 

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছর থেকে ২০২০-২০২১ অর্থ বছর পর্যন্ত এ পাঁচ বছরে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে পৌর শহরের অন্তত ৫৫টি সড়ক পুননির্মাণ করা হয়েছে। সবমিলে প্রায় ৬০কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন করা হয়েছে। পৌরসভার রাজস্ব তহবিল ও সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এসব সড়কের উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। এছাড়া চলতি অর্থ বছরে আরও অন্তত ১০টি সড়কের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে এসব সড়কের উন্নয়ন কাজও শেষ করা হবে। 

পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পাঁচ বছরে সব উন্নয়ন সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। তবে যদি পৌর পরিষদের মেয়র ও কাউন্সিলরগণ আন্তরিক হয় তাহলে অনেকটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তারই নজির রেখেছে পৌর পরিষদের বর্তমান মেয়রসহ তার পরিষদ। দেখা গেছে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ছিল যা বিগত ২০-২৫ বছরেও উন্নয়ন হয়নি। বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে নানা জটিলতা ছিল। কিন্তু বর্তমান মেয়র সকল জটিলতাকে জয় করে কাজ চালিয়ে গেছেন। 

সূত্র জানায়, শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মধ্যে অন্যতম হাসপাতাল সড়ক। প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে দুইপাশ সম্প্রসারণ ও নতুন ড্রেণ নির্মাণসহ সড়কটি উন্নয়ন করা হয়েছে। ৩কোটি ৫৮লাখ টাকা ব্যয়ে সেন্ট্রাল সড়ক করা হয়েছে। যার কারণে মাইজদী বাজার থেকে দত্তেরহাট পর্যন্ত হালকা যানবাহনগুলো ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে পারছে। এতে প্রধান সড়কে যানজট কমেছে অনেকটা। নতুন বাস স্ট্যান্ড ও মাইজদী বাজার থেকে অনন্তপুর ও জেল খানায় যাতায়াতের সড়কটি করা হয়েছে। প্রায় ৩কোটি ৮৭লাখ টাকা ব্যয়ে এ সড়ক করা হয়। বলা চলে প্রায় ৮০ভাগ সড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ। 

এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সুজিত বড়–য়া বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ টেকসই উন্নয়নে বিশ্বাসী। এ পর্যন্ত যতগুলো সড়ক পাকা করণ করা হয়েছে তার প্রত্যেকটি সড়ক অন্তত ৫-৭ বছরেও নষ্ট হওয়ার নয়। তারপরও জলাবদ্ধতা, সড়কের পাশের গাছ-গাছালি এবং অতিরিক্ত পন্যবাহী গাড়ি যাতায়াতের কারণে কিছু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং হচ্ছে। সে বিষয়েও তারা সজাগ আছেন। যেসব সড়ক সামান্যটুকুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো দ্রুত মেরামত করা হয়েছে।

জেলার প্রবিণ একাধিক রাজনীতিবিদ জানান, জেলা শহর মাইজদীর গণপূর্ত ভবনের পিছনের সড়কটি, হাসপাতাল সড়ক, জেল খানা সড়ক ও সেন্ট্রাল সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো এক একটি বিকল্প সড়কও বটে। দেখা গেছে গত ২০-২৫ বছরেও এসব সড়ক উন্নয়ন হয়নি। খানাখন্দে ভরা ছিল, বৃষ্টি আসলে হাটু পরিমাণ পানি জমাট বাঁধতো। বর্তমান মেয়র দায়িত্ব নেয়ার পরই এসব সড়ক গুরুত্বের সাথে দেখেছে এবং সেগুলো পুনঃনির্মাণ হয়েছে। এতে পৌর নাগরিকদের দুর্ভোগ লাগব হয়েছে। আন্তরিকতার সাথে উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে নোয়াখালী পৌরসভাকে মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করতে বেশি সময় লাগবে না। প্রবীন নাগরিকদের দাবী, শুধু সড়ক উন্নয়ন নয় পরিচ্ছন্ন শহর উপহার দিতে হবে কর্তৃপক্ষকে। 

পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যাহ্ খান সোহেল বলেন, তিনিসহ তার পরিষদ দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে পৌর নাগরিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। পাড়া ও ওয়ার্ড ভিত্তিক আলোচনা করা হয়েছে, নাগরিকদের চাহিদা মতো কাজ করার চেষ্টা করেছে তার পরিষদ। ইতোমধ্যে শহরের প্রায় সড়কগুলোর অনেকটাই উন্নয়ন করা হয়েছে। যে কয়েকটি রয়েছে, সেগুলোও অল্প সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে। 

এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, সরকারি বরাদ্ধ আর তার পরিষদের সদিচ্ছা দুটো মিলিয়েই নোয়াখালী পৌর শহরকে একটি আধুনিক শহরে রূপান্তর করা হবে। কয়েক কোটি টাকা দেনা গাঁড়ে নিয়েই তিনিসহ তার পরিষদ পৌরসভার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ইতোমধ্যে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারি ও বিদ্যুৎ বিভাগের কয়েক কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। দেনা পরিশোধের পাশাপাশি রাজস্ব এবং সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় শহরের উন্নয়ন কাজ করেছেন। শুধু সড়ক নয়, পানি সমস্যা, ড্রেণেজ ব্যবস্থা ও আধুনিক ডাম্পিং ব্যবস্থায়ও হাত দেওয়া হয়েছে। আগামীতে সুযোগ পেলে নাগরিকদের সেবা করার যে মানসিকতা নিয়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সেসব অসমাপ্ত কাজগুলোও সম্পন্ন করে সকল নাগরিক সুবিধা সম্পন্ন একটি আধুনিক পৌর শহর পৌরবাসীকে উপহার দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন :