ধরাছোঁয়ার বাইরে মুজাক্কিরের হত্যাকারীরা

সোমবার সাংবাদিকের কালো পতাকা মিছিল

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যা মামলার দৃশ্যত কোন অগ্রগতি নেই। হত্যাকান্ডের নয়দিন পেরিয়ে গেলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে হত্যাকারীরা। প্রকাশ্যে অস্ত্রহাতে গোলাগুলিতে অংশনেয়া ক্যাডারদের ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে, পুলিশ সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে কিন্তু কোন আসামী ধরা পড়েনি।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো অব বাংলাদেশ-পিআইবি’র কর্মকর্তাদের দাবি তদন্ত চলছে এবং আসামী গ্রেফতার হবে। এদিকে সহকর্মীদের হত্যার দাবিতে ১ মার্চ সোমবার নোয়াখালীতে সাংবাদিকরা কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচী ঘোষণা করছে। অভিলম্বে মুজাক্কিরের হত্যার বিচারের দাবিতে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করবেন। 

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি টিম রোববার বিকালে কোম্পানীগঞ্জের চর ফকিরায় নিহত মুজাক্কিরের বাড়িতে গেলে ছেলে হত্যার বিচার দাবিকে প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁর বাবা-মা। এসময় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ তাঁদের সান্তনা দেন একইসাথে আইনী সহায়তার আশ্বাসও দেন।

মুজাক্কির হত্যা মামলা প্রসঙ্গে শনিবার বিকালে নিহত মুজাক্কিরের ভাই নূর উদ্দিন জানান- মুজাক্কির হত্যার ঘটনায় আমার বাবা বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। যেহেতু ওইদিন ঘটনাস্থলে আমরা ছিলাম না তাই আমরা কাউকে না দেখার কারণে মামলায় অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের আসামী করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্ত করা হয়। আমরা পিবিআই টিমের কাছে আশাবাদী তাঁরা দ্রুত মুজাক্কির হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করবেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসাবেই  গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলসহ প্রতিটি বিষয় তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয় নিয়ে তিনি বেশি কিছু বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে বসুরহাট পৌরসভার ময়র মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ও শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষের মুখে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক মুজাক্কির’সহ ৭-৮জন। পরে আশংকাজনক অবস্থায় মুজাক্কিরকে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে গত শনিবার রাত ১০টা ৪৫মিনিটে তার মৃত্যু হয়। মুজাক্কির অনলাইন নিউজ পোর্টাল বার্তা বাজারের নোয়াখালী প্রতিনিধি ছিলেন। 

সংঘর্ষ, গুলির ঘটনা পুলিশ বাদী হয়ে দুটি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে পুলিশের মামলা দুটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং মুজাক্কির হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার বাবার দায়ের করা মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে। বাদলের দায়ের করা মামলাটি কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ তদন্ত করছে। 

মন্তব্য লিখুন :


আরও পড়ুন